৪/৩৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩২৭-[৪] - প্রয়োজনের সময় দুই রাকআত ও দোয়া
নফল সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
সকল প্রকার নফল সালাত, যেগুলো নবী (ﷺ) থেকে প্রমাণিত, যথাক্রমে সালাতুল তাহ্ইয়্যাতুল উযূ, সালাতুন ইস্তিখারাহ্, তওবা্, সালাতুল হাজাত এবং সালাতুত্ তাসবীহ।التَّطَوُّعِশব্দটিالطوع، والطاعةশব্দ হতে গৃহীত অর্থ মান্য করা, বাস্তবায়ন করা, মেনে নেয়া ইত্যাদি এবংالتَّطَوُّعِশব্দটি ফরয ও ওয়াজিব ব্যতীত সকল নফলের উপর মুত্বলাক (তালাক)্ব (সকল নফলের ক্ষেত্রে এ শব্দটি প্রযোজ্য) আর যে বা যারা ফরয কিংবা ওয়াজিবের উপর অতিরিক্ত ‘আমলুস্ সালিহ বা সৎকর্ম সম্পাদন করে তাকে (مُتَطَوِّعِ) বলা হয়।
হাজত সালাত: প্রয়োজনের সময় আল্লাহর কাছে দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৩২৭-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩২৭-[৪]
وَعَنْ عَبْدُ اللّهِ بْنِ أَبِىْ أَوْفى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ كَانَتْ لَه حَاجَةٌ إِلَى اللّهِ أَوْ إِلى أَحَدٍ مِنْ بَنِىْ ادَمَ فَلْيَتَوَضَّأ فَلْيُحْسِنِ الْوُضُوْءَ ثُمَّ لْيُصَلِّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ لْيُثْنِ عَلَى اللّهِ تَعَالى وَلْيُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ ثُمَّ لْيَقُلْ: لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ الْحَلِيْمُ الْكَرِيْمُ سُبْحَانَ اللّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ وَالْحَمْدُ لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ لَا تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلَّا غَفَرْتَه وَلَا هَمًّا إِلَّا فَرَّجْتَه وَلَا حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًى إِلَّا قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ».رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ
‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহর নিকট বা কোন লোকের নিকট কারো কোন দরকার হয়ে পড়লে সে যেন ভাল করে উযূ করে দুইরাক্’আত সালাত আদায় করে। তারপর আল্লাহর প্রশংসা করে, নবী (ﷺ)-এর ওপর দরুদ পড়ে, এ দোয়া পড়ে (দোয়ার বাংলা অর্থঃ) “আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিনি বড়ই ধৈর্যশীল ও অনুগ্রহশীল। আল্লাহ মহাপবিত্র, তিনি ‘আরশে আযীমের অধিপতি। সব প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার, যিনি সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা।হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঐসব জিনিস চাই যার উপর তোমার রহমত বর্ষিত হয় এবং যা তোমার ক্ষমা পাওয়ার উপায় হয়। আর আমি আমার ভাল কাজের অংশ চাই। সকল গুনাহ থেকে বাঁচতে চাই। হে আল্লাহ! তুমি আমার কোন গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া ব্যতীত, আমার কোন দুঃখ দূর করে দেয়া ব্যতীত, আমার কোন দরকার যা তোমার নিকট পছন্দনীয়, পূরণ করা ব্যতীত রেখে দিও না, হে আর্হামার রহিমীন”। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ্; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদিসটি গরীব।) [১]
[১] খুবই দুর্বল : আত্ তিরমিযী ৪৭৯, ইবনু মাজাহ্ ১৩৮৪, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১১৯৯, শু‘আবুল ঈমান ২৯৯৫, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৮০৯, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৪১৬। কারণ এর সানাদে ফায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান দুর্বল রাবী। তার সম্পর্কে ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেছেন, সে মাতরূকুল হাদীস।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩২৭-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, কারো আল্লাহর কাছে বা কোনো মানুষের কাছে কোনো দরকার হলে সে যেন ভালোভাবে উযূ করে দুই রাকআত সালাত আদায় করে। তারপর আল্লাহর প্রশংসা করবে, নবী صلى الله عليه وسلم-এর উপর দরুদ পড়বে এবং দোয়া করবে। দোয়ায় আল্লাহর একত্ব, তাঁর ধৈর্য ও অনুগ্রহ, আরশের রব হওয়া, সব প্রশংসা তাঁর জন্য—এসব স্বীকার করা হয়েছে। এরপর রহমত, ক্ষমা, নেক কাজের অংশ, গুনাহ থেকে নিরাপত্তা, দুঃখ দূর হওয়া এবং আল্লাহর পছন্দনীয় প্রয়োজন পূরণের আবেদন আছে। হাদিসে ইমাম তিরমিযী এটিকে গরীব বলেছেন। তাই ব্যাখ্যায় মূল পাঠের সীমা রেখে বলা উচিত, প্রয়োজনের সময় সালাত ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার শিক্ষা এখানে দেওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রয়োজনের সময় ভালোভাবে উযূ করে দুই রাকআত সালাত পড়ার নির্দেশ এসেছে।
- দোয়ার আগে আল্লাহর প্রশংসা ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর উপর দরুদ পড়ার কথা বলা হয়েছে।
- দোয়ায় গুনাহ মাফ, দুঃখ দূর ও কল্যাণকর প্রয়োজন পূরণের আবেদন আছে।
- হাদিসটির মান সম্পর্কে তিরমিযীর গরীব মন্তব্য উল্লেখ আছে।
