৪/৩৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩২৬-[৩] - বিলালের আযান ও উযূর পর দুই রাকআত
নফল সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
সকল প্রকার নফল সালাত, যেগুলো নবী (ﷺ) থেকে প্রমাণিত, যথাক্রমে সালাতুল তাহ্ইয়্যাতুল উযূ, সালাতুন ইস্তিখারাহ্, তওবা্, সালাতুল হাজাত এবং সালাতুত্ তাসবীহ।التَّطَوُّعِশব্দটিالطوع، والطاعةশব্দ হতে গৃহীত অর্থ মান্য করা, বাস্তবায়ন করা, মেনে নেয়া ইত্যাদি এবংالتَّطَوُّعِশব্দটি ফরয ও ওয়াজিব ব্যতীত সকল নফলের উপর মুত্বলাক (তালাক)্ব (সকল নফলের ক্ষেত্রে এ শব্দটি প্রযোজ্য) আর যে বা যারা ফরয কিংবা ওয়াজিবের উপর অতিরিক্ত ‘আমলুস্ সালিহ বা সৎকর্ম সম্পাদন করে তাকে (مُتَطَوِّعِ) বলা হয়।
বিলাল (রাঃ)-এর নিয়মিত দুই রাকআত সালাতের আমল
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৩২৬-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩২৬-[৩]
وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: أَصْبَحَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ فَدَعَا بِلَالًا فَقَالَ: «بِمَ سَبَقْتَنِىْ إِلَى الْجَنَّةِ مَا دَخَلْتُ الْجَنَّةَ قَطُّ إِلَّا سَمِعْتُ خَشْخَشَتَكَ أَمَامِىْ». قَالَ: يَا رَسُولَ اللّهِ مَا أَذَّنْتُ قَطُّ إِلَّا صَلَّيْتُ رَكْعَتَيْنِ وَمَا أَصَابَنِىْ حَدَثٌ قَطُّ إِلَّا تَوَضَّأْتُ عِنْدَه وَرَأَيْتُ أَنَّ لِلّهِ عَلَيَّ رَكْعَتَيْنِ. فَقَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «بِهِمَا». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফাজ্রের সময় বিলালকে ডাকলেন। তাঁকে তিনি বললেন, কি ‘আমাল দ্বারা তুমি আমার পূর্বে জান্নাতে চলে গেছ। আমি যখনই জান্নাতে প্রবেশ করেছি, তোমার জুতার আওয়াজ শুনেছি। বিলাল আবেদন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আযান দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই রাক্‘আত সালাত অবশ্যই আদায় করি। আর আমার উযূ নষ্ট হয়ে গেলে তখনই আমি উযূ করে আল্লাহর জন্যে দুই রাক্‘আত সালাত আদায় করা জরুরী মনে করেছি। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : হ্যাঁ, এ কারণেই তুমি এত বিশাল মর্যাদায় পৌঁছে গেছ। (তিরমিযী) [১]
[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ১৩৮৯, আহমাদ ২২৯৯৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১০১২, সহীহ আল জামি‘ ৭৮৯৪, ইবনু খুযায়মাহ্ ১২০৯, ইবনু হিব্বান ৭০৮৬, ৭০৮৭, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১১৭৯, শু‘আবুল ঈমান ২৪৬১, সহীহ আত্ তারগীব ২০১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩২৬-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বিলাল (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, কোন আমলের কারণে তিনি জান্নাতে নবী صلى الله عليه وسلم-এর আগে পৌঁছে গেছেন বলে তাঁর জুতার আওয়াজ শোনা গেছে। বিলাল (রাঃ) বলেন, তিনি যখনই আযান দিয়েছেন, দুই রাকআত সালাত আদায় করেছেন। আর উযূ নষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে উযূ করে আল্লাহর জন্য দুই রাকআত সালাত আদায় করাকে জরুরি মনে করেছেন। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, এ দুটির কারণেই এ মর্যাদা। এখানে আযানের পর সালাত ও উযূর পর সালাত—দুইটি নিয়মিত নফল আমল উঠে এসেছে। হাদিসটি ছোট আমলে ধারাবাহিকতা, পবিত্রতা ও আল্লাহর জন্য সালাতের গুরুত্ব বোঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযানের পর দুই রাকআত সালাত আদায় করা একটি সুন্দর আমল।
- উযূ নষ্ট হলে নতুন করে উযূ করে সালাত পড়ার গুরুত্ব বোঝা যায়।
- বিলাল (রাঃ)-এর আমলে নিয়মিততা ও আন্তরিকতা ছিল।
- নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর আমলের মর্যাদা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
