৪/৪২. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৬০-[২] - আসরের পর দোয়া কবুলের সময়

জুমার সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ

এখানেبَابُ الْجُمُعَةِ(জুমু‘আহ্ অধ্যায়) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জুমু‘আর দিনের ফাযীলাত ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা।ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন,الْجُمُعَةِশব্দেরجএবংمবর্ণদ্বয়ে পেশ যোগে পড়া যাবে এবংمএ সাকিন এবং যবর যোগেও পড়া যাবে। এ দিনে মানুষ সালাত আদায়ের জন্য একত্রিত হয় বিধায় এর নামকরণ করা হয়েছে(يَوْمُ الْجُمُعَةِ) বা একত্রিত হওয়ার দিন। আর জাহিলী যামানায় জুমু‘আর দিনকে বলা হত ’‘আরুবাহ্’’।ইবনু হাযম (রহঃ) বলেনঃ (يَوْمُ الْجُمُعَةِ) জুমু‘আর দিনটা ইসলামী নাম, এটি জাহিলীতে ছিল না। নিশ্চয় জাহিলী যুগে এর নাম ছিল ’‘আরবাহ্’’। ইসলামী যুগে লোকজন এ দিনে সালাতে একত্রিত হওয়ার কারণেالْجُمُعَةِ(আল জুমু‘আহ্) বলে নামকরণ করা হয়। এরই সমর্থনে ‘আবদ ইবনু হুমায়দ তাঁর তাফসীরে ইবনু সীরীন থেকে বিশুদ্ধ সানাদে বর্ণনা করেছেন সে ঘটনা, যাতে আস্ওয়াদ ইবনু যুরারার সাথে আনসারগণ একত্রিত হয়েছিল। আর তারা জুমু‘আর দিনকে ’‘আরুবাহ্’’ বলত, অতঃপর তিনি তাদের সাথে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং তাদের সাথে আলোচনা করলেন। অতঃপর তারা যখন এ দিনে জমায়েত হয়েছিল তখন এ দিনের নামকরণ করল ’‘জুমু‘আর দিন’’।কেউ বলেছেন, এ দিনে সকল সৃষ্টিকুলকে একত্রিত করা হবে বিধায় এ দিনের নামالْجُمُعَةِ(আল জুমু‘আহ্) রাখা হয়েছে। কেউ বলেছেন এ দিনে আদম (আঃ) সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এ দিনে একত্রিত করা হয়েছে বিধায় এর নামالْجُمُعَةِ(আল জুমু‘আহ্) রাখা হয়েছে। যেমন- এ মতের সমর্থনে সালমান (রাঃ)বর্ণিত হাদীস আহমাদ, ইবনু খুযায়মাহ্ সংকলন করেছেন এবং আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বর্ণিত এর সমর্থনে বিশুদ্ধ সানাদে বর্ণনা রয়েছে এবং হাফিয আসক্বালানী (রহঃ) এ মতকে অধিক বিশুদ্ধ বলেছেন।কেউ বলেছেনঃ যেহেতু এ দিনে কা‘ব ইবনু লুয়াই তার ক্বওমের লোকদেরকে একত্রিত করত ও হারাম মাসগুলোর সম্মান রক্ষার নির্দেশ দিত বিধায় এর নামالْجُمُعَةِ(আল জুমু‘আহ্) রাখা হয়েছে।যা হোক ইবনুল ক্বইয়্যূম (রহঃ) তার ’‘আল হুদা’’ গ্রন্থের ১ম খন্ডের ১০২-১১৮ পৃষ্ঠায় জুমু‘আর দিনের ৩৩টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন, যার কতক হাফিয আসক্বালানী (রহঃ) ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন।

জুমু’আর দিনে আসরের পর দোয়া কবুলের সময়

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩৬০-[২]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «الْتَمِسُوا السَّاعَةَ الَّتِىْ تُرْجى فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ إِلى غَيْبُوبَةِ الشَّمْسِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি জুমু’আর দিন দোয়া কবুল হবার সময়টির আকাঙ্ক্ষা করে, সে যেন ‘আস্‌রের পরে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সময় খোঁজে। (তিরমিযি) [১]

[১] হাসান লিগায়রিহী : আত্ তিরমিযী ৪৮৯, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ২৫৮৩, সহীহ আত্ তারগীব ৭০১, সহীহ আল জামি‘ ১২৩৭।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৬০-[২]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আনাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم থেকে জুমু’আর দিনের দোয়া কবুলের সময় খোঁজার নির্দেশ বর্ণনা করেছেন। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমু’আর দিন দোয়া কবুল হওয়ার আশার সময়টি খোঁজে, সে যেন আসরের পর থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তা খোঁজে। এখানে সময়টি খুব স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তাই এই হাদিস জুমার দিনে দোয়া কবুলের সময়, আসরের পর দোয়া এবং জুমু’আর শেষ সময়ের আমল সম্পর্কে সরাসরি প্রাসঙ্গিক। বর্ণনায় দোয়া কবুলের সময়কে ‘আশা করা হয়’ এমন সময় হিসেবে এসেছে, তাই ভাষাতেও সেই ভারসাম্য রাখা দরকার।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • জুমু’আর দিনে দোয়া কবুলের সময় খোঁজার কথা এসেছে।
  • আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় উল্লেখ করা হয়েছে।
  • দোয়ার জন্য জুমু’আর শেষ সময়কে গুরুত্ব দেওয়া যায়।
  • হাদিসের ভাষায় সময়টি আশা করা হয়—এভাবে বলা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন