৪/৪২. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৬১-[৩] - জুমার দিন দরূদের বিশেষ আমল

জুমার সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ

এখানেبَابُ الْجُمُعَةِ(জুমু‘আহ্ অধ্যায়) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জুমু‘আর দিনের ফাযীলাত ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা।ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন,الْجُمُعَةِশব্দেরجএবংمবর্ণদ্বয়ে পেশ যোগে পড়া যাবে এবংمএ সাকিন এবং যবর যোগেও পড়া যাবে। এ দিনে মানুষ সালাত আদায়ের জন্য একত্রিত হয় বিধায় এর নামকরণ করা হয়েছে(يَوْمُ الْجُمُعَةِ) বা একত্রিত হওয়ার দিন। আর জাহিলী যামানায় জুমু‘আর দিনকে বলা হত ’‘আরুবাহ্’’।ইবনু হাযম (রহঃ) বলেনঃ (يَوْمُ الْجُمُعَةِ) জুমু‘আর দিনটা ইসলামী নাম, এটি জাহিলীতে ছিল না। নিশ্চয় জাহিলী যুগে এর নাম ছিল ’‘আরবাহ্’’। ইসলামী যুগে লোকজন এ দিনে সালাতে একত্রিত হওয়ার কারণেالْجُمُعَةِ(আল জুমু‘আহ্) বলে নামকরণ করা হয়। এরই সমর্থনে ‘আবদ ইবনু হুমায়দ তাঁর তাফসীরে ইবনু সীরীন থেকে বিশুদ্ধ সানাদে বর্ণনা করেছেন সে ঘটনা, যাতে আস্ওয়াদ ইবনু যুরারার সাথে আনসারগণ একত্রিত হয়েছিল। আর তারা জুমু‘আর দিনকে ’‘আরুবাহ্’’ বলত, অতঃপর তিনি তাদের সাথে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং তাদের সাথে আলোচনা করলেন। অতঃপর তারা যখন এ দিনে জমায়েত হয়েছিল তখন এ দিনের নামকরণ করল ’‘জুমু‘আর দিন’’।কেউ বলেছেন, এ দিনে সকল সৃষ্টিকুলকে একত্রিত করা হবে বিধায় এ দিনের নামالْجُمُعَةِ(আল জুমু‘আহ্) রাখা হয়েছে। কেউ বলেছেন এ দিনে আদম (আঃ) সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এ দিনে একত্রিত করা হয়েছে বিধায় এর নামالْجُمُعَةِ(আল জুমু‘আহ্) রাখা হয়েছে। যেমন- এ মতের সমর্থনে সালমান (রাঃ)বর্ণিত হাদীস আহমাদ, ইবনু খুযায়মাহ্ সংকলন করেছেন এবং আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বর্ণিত এর সমর্থনে বিশুদ্ধ সানাদে বর্ণনা রয়েছে এবং হাফিয আসক্বালানী (রহঃ) এ মতকে অধিক বিশুদ্ধ বলেছেন।কেউ বলেছেনঃ যেহেতু এ দিনে কা‘ব ইবনু লুয়াই তার ক্বওমের লোকদেরকে একত্রিত করত ও হারাম মাসগুলোর সম্মান রক্ষার নির্দেশ দিত বিধায় এর নামالْجُمُعَةِ(আল জুমু‘আহ্) রাখা হয়েছে।যা হোক ইবনুল ক্বইয়্যূম (রহঃ) তার ’‘আল হুদা’’ গ্রন্থের ১ম খন্ডের ১০২-১১৮ পৃষ্ঠায় জুমু‘আর দিনের ৩৩টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন, যার কতক হাফিয আসক্বালানী (রহঃ) ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন।

জুমার দিনে দরূদ: বিশেষ আমল ও মর্যাদা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩৬১-[৩]

وَعَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ ادَمُ وَفِيهِ قُبِضَ وَفِيْهِ النَّفْخَةُ وَفِيْهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُا عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَليّ» فَقَالُوْا: يَا رَسُوْلَ الله وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْك وَقَدْ أَرَمْتَ؟ قَالَ: يَقُولُونَ: بَلِيْتَ قَالَ: «إِنَّ اللّهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي الدَّعْوَاتِ الْكَبِيْرِ

আওস ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: জুমু’আর দিন হলো তোমাদের সর্বোত্তম দিন। এ দিনে আদাম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিনে তাঁর রূহ কবজ করা হয়েছে। এ দিনে প্রথম শিঙ্গা ফুৎকার হবে। এ দিন দ্বিতীয় শিঙ্গা ফুৎকার দেয়া হবে। কাজেই এ দিন তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করবে। কারণ তোমাদের দরূদ আমার নিকট পেশ করা হবে।সাহাবীগণ আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের দরূদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে? অথচ আপনার হাড়গুলো পচে গলে যাবে? বর্ণনাকারী বলেন, أَرَمْتَ (আরাম্‌তা) শব্দ দ্বারা সাহাবীগণ بَلِيْتَ (বালীতা) অর্থ বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ আপনার পবিত্র দেহ পচে গলে মাটিতে মিশে যাবে। তিনি (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তা'আলা নবী-রাসূলদের শরীর মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন (অর্থাৎ মাটি তাঁদের দেহ নষ্ট করতে পারবে না)।(, আবূ দাউদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ্, দারিমী ও বায়হাক্বীর দা’ওয়াতুল কাবীর) [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১০৪৭, নাসায়ী ১৩৭৪, ইবনু মাজাহ্ ১০৮৫, ১৬৩৬, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৮৬৯৭, আহমাদ ১৬১৬২, দারিমী ১৬১৩, ইবনু খুযায়মাহ্ ১৭৩৩, ইবনু হিব্বান ৯১০, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১০২৯, দা‘ওয়াতুল কাবীর ৫২৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৯৯৩, ইরওয়া ৪, সহীহ আত্ তারগীব ৬৯৬, ১৬৭৪, সহীহ আল জামি‘ ২২১২।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৬১-[৩]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে জুমু’আর দিনের ফজিলত খুব স্পষ্টভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, এটি আমাদের সর্বোত্তম দিন। এ দিনে আদাম (আ.) সৃষ্টি হয়েছেন, এ দিন তাঁর রূহ কবয করা হয়েছে, এ দিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে এবং কিয়ামতের বড় ঘটনা ঘটবে। তাই এই দিনে নবীজির ওপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল শিক্ষা হলো, জুমার দিন শুধু সাপ্তাহিক সালাতের দিন নয়; এটি স্মরণ, দরূদ ও আখিরাতের কথা ভাবার দিন। সাহাবীগণ যখন জানতে চাইলেন দরূদ কীভাবে পেশ হবে, তখন নবীজী জানালেন, আল্লাহ নবী-রাসূলদের শরীর মাটির জন্য হারাম করেছেন। তাই জুমার দিনের আমল হিসেবে দরূদ পাঠ মুমিনের ভালোবাসা ও আনুগত্যের প্রকাশ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • জুমু’আর দিনে নবীজির ওপর বেশি দরূদ পাঠ করা বিশেষ আমল।
  • জুমু’আর দিন আদাম (আ.) ও কিয়ামতের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।
  • নবী-রাসূলদের মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসে বিশেষ কথা বলা হয়েছে।
  • দরূদ পাঠ নবীজির প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের প্রকাশ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন