৪/৪২. অধ্যায়ঃ
জুমার সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
এখানেبَابُ الْجُمُعَةِ(জুমু’আহ্ অধ্যায়) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জুমু’আর দিনের ফাযীলাত ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা।ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন,الْجُمُعَةِশব্দেরجএবংمবর্ণদ্বয়ে পেশ যোগে পড়া যাবে এবংمএ সাকিন এবং যবর যোগেও পড়া যাবে। এ দিনে মানুষ সালাত আদায়ের জন্য একত্রিত হয় বিধায় এর নামকরণ করা হয়েছে(يَوْمُ الْجُمُعَةِ) বা একত্রিত হওয়ার দিন। আর জাহিলী যামানায় জুমু’আর দিনকে বলা হত ’’আরুবাহ্’’।ইবনু হাযম (রহঃ) বলেনঃ (يَوْمُ الْجُمُعَةِ) জুমু’আর দিনটা ইসলামী নাম, এটি জাহিলীতে ছিল না। নিশ্চয় জাহিলী যুগে এর নাম ছিল ’’আরবাহ্’’। ইসলামী যুগে লোকজন এ দিনে সালাতে একত্রিত হওয়ার কারণেالْجُمُعَةِ(আল জুমু’আহ্) বলে নামকরণ করা হয়। এরই সমর্থনে ’আবদ ইবনু হুমায়দ তাঁর তাফসীরে ইবনু সীরীন থেকে বিশুদ্ধ সানাদে বর্ণনা করেছেন সে ঘটনা, যাতে আস্ওয়াদ ইবনু যুরারার সাথে আনসারগণ একত্রিত হয়েছিল। আর তারা জুমু’আর দিনকে ’’আরুবাহ্’’ বলত, অতঃপর তিনি তাদের সাথে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং তাদের সাথে আলোচনা করলেন। অতঃপর তারা যখন এ দিনে জমায়েত হয়েছিল তখন এ দিনের নামকরণ করল ’’জুমু’আর দিন’’।কেউ বলেছেন, এ দিনে সকল সৃষ্টিকুলকে একত্রিত করা হবে বিধায় এ দিনের নামالْجُمُعَةِ(আল জুমু’আহ্) রাখা হয়েছে। কেউ বলেছেন এ দিনে আদম (আঃ) সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এ দিনে একত্রিত করা হয়েছে বিধায় এর নামالْجُمُعَةِ(আল জুমু’আহ্) রাখা হয়েছে। যেমন- এ মতের সমর্থনে সালমান (রাঃ)বর্ণিত হাদীস আহমাদ, ইবনু খুযায়মাহ্ সংকলন করেছেন এবং আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বর্ণিত এর সমর্থনে বিশুদ্ধ সানাদে বর্ণনা রয়েছে এবং হাফিয আসক্বালানী (রহঃ) এ মতকে অধিক বিশুদ্ধ বলেছেন।কেউ বলেছেনঃ যেহেতু এ দিনে কা’ব ইবনু লুয়াই তার ক্বওমের লোকদেরকে একত্রিত করত ও হারাম মাসগুলোর সম্মান রক্ষার নির্দেশ দিত বিধায় এর নামالْجُمُعَةِ(আল জুমু’আহ্) রাখা হয়েছে।যা হোক ইবনুল ক্বইয়্যূম (রহঃ) তার ’’আল হুদা’’ গ্রন্থের ১ম খন্ডের ১০২-১১৮ পৃষ্ঠায় জুমু’আর দিনের ৩৩টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন, যার কতক হাফিয আসক্বালানী (রহঃ) ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ১৩৫৯-[১]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১৩৫৯-[১]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: خَرَجْتُ إِلَى الطُّورِ فَلَقِيتُ كَعْبَ الْأَحْبَارِ فَجَلَسْتُ مَعَه فَحَدَّثَنِىْ عَنِ التَّوْرَاةِ وَحَدَّثْتُه عَنْ رَسُولِ اللّهِ ﷺ فَكَانَ فِيمَا حَدَّثْتُه أَنْ قُلْتُ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ ادَمُ وَفِيهِ أُهْبِطَ وَفَيْهِ تِيبَ عَلَيْهِ وَفِيهِ مَاتَ وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ وَمَا من دَابَّةٍ إِلَّا وَهِىْ مَسِيْخَةٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مِنْ حِينَ تُصْبِحُ حَتّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ شَفَقًا مِنَ السَّاعَةِ إِلَّا الْجِنَّ وَالْإِنْسَ وفيهَا سَاعَةٌ لَا يُصَادِفُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ يُصَلِّىْ يسْأَل اللهَ شَيْئًا إِلَّا أعطَاهُ إِيَّاهَا. قَالَ كَعْبٌ: ذلِكَ فِىْ كُلِّ سَنَةٍ يَوْمٌ. فَقُلْتُ: بَلْ فِىْ كُلِّ جُمُعَةٍ قَالَ فَقَرَأَ كَعْبٌ التَّوْرَاةَ. فَقَالَ: صَدَقَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: لَقِيتُ عَبْدَ اللّهِ بْنَ سَلَامٍ فَحَدَّثْتُه بِمَجْلِسِىْ مَعَ كَعْب وَمَا حَدَّثْتُه فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَقُلْتُ لَه: قَالَ كَعْب: ذلِكَ فِىْ كُلِّ سَنَةٍ يَوْمٌ؟ قَالَ عَبْدُ اللّهِ بْنُ سَلَامٍ: كَذَبَ كَعْبٌ. فَقُلْتُ لَه ثُمَّ قَرَأَ كَعْبٌ التَّوْرَاةَ. فَقَالَ: بَلْ هِيَ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ. فَقَالَ عَبْدُ اللّهِ بْنُ سَلَامٍ: صَدَقَ كَعْبٌ ثُمَّ قَالَ عَبْدُ اللّهِ بْنُ سَلَامٍ: قَدْ عَلِمْتُ أَيَّةَ سَاعَةٍ هِيَ. قَالَ أَبُو هُرَيْرَة فَقلت لَه: فَأَخْبرْنِىْ بِهَا. فَقَالَ عَبْدُ اللّهِ بْنُ سَلَامٍ: هِيَ اخِرُ سَاعَةٍ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَقُلْتُ: وَكَيْفَ تَكُونُ اخِرَ سَاعَةٍ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَا يُصَادِفُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ يُصَلِّىْ وَتِلْكَ السَّاعَةُ لَا يُصَلِّىْ فِيهَا؟» فَقَالَ عَبْدُ اللّهِ بْنُ سَلَامٍ: أَلَمْ يَقُلْ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ جَلَسَ مَجْلِسًا يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ فَهُوَ فِي صَلَاةٍ حَتّى يُصَلِّيَ؟» قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَقُلْتُ: بلى. قَالَ: فَهُوَ ذَاكَ. رَوَاهُ مَالِكٌ وَأَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَرَوى أَحْمَدُ إِلى قَوْلِه: صَدَقَ كَعْبٌ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি তূর (বর্তমান ফিলিস্তিনের সিনাই) পর্বতের দিকে গেলাম। সেখানে কা'ব আহবার-এর সঙ্গে আমার দেখা হলো। আমি তার কাছে বসে গেলাম। তিনি আমাকে তাওরাতের কিছু কথা বলতে লাগলেন। আমি তার সামনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কিছু হাদীস বর্ণনা করলাম।আমি যেসব হাদীস বর্ণনা করলাম তার একটি হলো, আমি তাকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যেসব দিনে সূর্য উদিত হয় তার মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমু’আর দিন। জুমু’আর দিনে আদামকে সৃষ্টি করা হয়েছে। ওই দিন তাঁকে জান্নাত থেকে জমিনে বের করা হয়েছে। এ দিনেই তাঁর তাওবাহ কবুল করা হয়। এ দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ দিনেই ক্বিয়ামাত হবে। আর জিন্ ইনসান ছাড়া এমন কোন চতুস্পদ জন্তু নেই যারা এ জুমু’আর দিনে সূর্য উদয় হতে অস্ত পর্যন্ত কেয়ামত হবার মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে। জুমু’আর দিন এমন একটি মুহূর্ত আছে, যে সময় যদি কোন মুসলিম সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর নিকট কিছু চায়, আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দান করেন। কা’ব আহবার এ কথা শুনে বললেন, এ রকম দিন বা সময় বছরে একবার আসে। আমি বললাম, বরং প্রতিটি জুমু’আর দিনে আসে। তখন কা'ব তাওরাত পাঠ করতে লাগলেন, এরপর বললেন, "রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সত্য বলেছেন।"আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) বলেন, এরপর আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) এর সাথে দেখা করলাম। অতঃপর কাব-এর কাছে আমি যে হাদীসের উল্লেখ করেছি তা তাকেও বললাম। এরপর আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) কে এ কথাও বললাম যে, কা'ব বলছেন, ‘এ দিন’ বছরে একবারই আসে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, “কাব ভুল কথা বলেছে।" তারপর আমি বললাম, কিন্তু কাব এরপর তাওরাত পড়ে বলেছে যে, এ সময়টা প্রত্যেক জুমু’আর দিনই আসে। ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, কা’ব এ কথা ঠিক বলেছে।এরপর বলতে লাগলেন, আমি জানি সে কোন সময়? আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, পুনরায় আমাকে বলুন। গোপন করবেন না। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, সেটা জুমু’আর দিনের শেষ প্রহর কি করে হয়, যেখানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে মু’মিন বান্দা এ ক্ষণটি পাবে ও সে এ সময়ে সালাত আদায় করে থাকে.....? (আর আপনি বলছেন সে সময়টি জুমু’আর দিনের শেষ প্রহর। সে সময় তো সালাত আদায় করা হয় না। সেটা মাকরূহ সময়)।‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বলেন, (এটা তো সত্য কথা কিন্তু) এটা কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথা নয় যে, যে ব্যক্তি সালাতের অপেক্ষায় নিজের স্থানে বসে থাকে সে সালাত অবস্থায়ই আছে, আবার সালাত পড়া পর্যন্ত। আবূ হুরায়রাহ বলেন, আমি এ কথা শুনে বললাম, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথা বলেছেন। 'আবদুল্লাহ বলেন, তাহলে সালাত অর্থ হলো, সালাতের জন্য অপেক্ষা করা। আর দিনের শেষাংশে সালাতের জন্য বসে থাকা নিষেধ নয়। সে সময় যদি কেউ দোয়া করে, তা কবুল হবে। (মালিক, আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী ইমাম আহমদও এ বর্ণনাটি صَدَقَ كَعْبٌ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন) [১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১০৪৬, আত্ তিরমিযী ৪৯১, নাসায়ী ১৪৩০, মুয়াত্ত্বা মালিক ৩৬৪, আহমাদ ১০৩০৩, ইবনু হিব্বান ২৭৭২, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১০৩০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬০০২, শু‘আবুল ঈমান ২৭১৪।
