৪/৪২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৬৫-[৭] - জুমু’আ নামকরণের কারণ
জুমার সালাত - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
জুমু’আ নামকরণের কারণ ও দোয়ার সময়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৩৬৫-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩৬৫-[৭]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قِيلَ لِلنَّبِيِّ ﷺ: لِأَيِّ شَيْءٍ سُمِّيَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ؟ قَالَ: «لِأَنَّ فِيهَا طُبِعَتْ طِينَةُ أَبِيْكَ ادَمَ وَفِيْهَا الصَّعْقَةُ وَالْبَعْثَةُ وَفِيْهَا الْبَطْشَةُ وَفِيْ اخِرِ ثَلَاثِ سَاعَاتٍ مِنْهَا سَاعَةٌ مَنْ دَعَا الله فِيهَا اسْتُجِيْبَ لَه». رَوَاهُ أَحْمَدُ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করা হলো: "জুমু’আর দিন" জুমু’আহ নাম কি কারণে রাখা হলো? তিনি বললেন, যেহেতু এ দিনে(১) তোমাদের পিতা আদাম (আঃ)-এর মাটি একত্র করে খামির করা হয়েছে।(২) এ দিনে প্রথম শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে।(৩) এ দিনে দ্বিতীয় বার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে।(৪) এ দিনেই কঠিন পাকড়াও হবে।তাছাড়া (৫) এ দিনের শেষ তিন প্রহরে এমন একটি সময় আছে যে কেউ আল্লাহ তা'আলার কাছে দোয়া করলে তা কবুল করা হয়। (আহমাদ) [১]
[১] য‘ঈফ : আহমাদ ৮১০২, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৪৩০। কারণ এর সানাদে ফারাজ ইবনু ফুযালাহ্ দুর্বল রাবী এবং ‘আলী ইবনু আবী ত্বলহাহ্ আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ লাভ করেননি। ফলে হাদীসটি মুনক্বতি‘ও বটে।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৬৫-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘জুমু’আর দিন’ নাম রাখা হলো কেন? উত্তরে তিনি কয়েকটি কারণ বলেন। এ দিনে আদাম (আ.)-এর মাটি একত্র করে খামির করা হয়েছে। এ দিনেই প্রথম শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে এবং দ্বিতীয় বারও শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে। এ দিনেই কঠিন পাকড়াও হবে। এরপর নবীজী বলেন, এ দিনের শেষ তিন প্রহরে এমন একটি সময় আছে, যে সময়ে কেউ আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল করা হয়। তাই এই হাদিসে জুমু’আ নামকরণের কারণ, কেয়ামতের স্মরণ এবং জুমার দিনে দোয়া—তিনটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে। মুমিনের জন্য শিক্ষা হলো, জুমার দিনকে দোয়া, তাওবা ও আখিরাত স্মরণের দিন হিসেবে গ্রহণ করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমু’আ নামকরণের সঙ্গে আদাম (আ.)-এর ঘটনা যুক্ত।
- জুমু’আর দিন কেয়ামতের বড় ঘটনার স্মরণ করায়।
- দিনের শেষ ভাগে দোয়া করার বিশেষ উৎসাহ পাওয়া যায়।
- জুমার দিনকে আখিরাতের প্রস্তুতির দিন হিসেবে ভাবা উচিত।
