১৪/৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৩৭৪ - জুমার দিনে দরুদ পড়ার ফজিলত
জুমু‘আহ্হ্বারে নাবী (ﷺ)-এর ওপরে বেশি পরিমাণে দরূদ পড়া
জুমার দিনে দরুদ পড়ার ফজিলত ও নবীজির নির্দেশ
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৩৭৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৩৭৪
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَفِيهِ قُبِضَ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ، فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ»قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْكَ، وَقَدْ أَرَمْتَ أَيْ يَقُولُونَ قَدْ بَلِيتَ؟ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ»
আউস ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আওস ইবনু আওস (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের সকল দিনের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট দিন হলো জুমু'আর দিন, সেদিন আদাম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, সেদিনেই তাঁর মৃত্যু হয়, সেদিনেই শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে এবং সেদিনেই ক্বিয়ামাত অনুষ্ঠিত হবে। অতএব, তোমরা (এদিনে) আমার ওপর বেশি পরিমাণে দরূদ পড়। কারণ, তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিভাবে আমাদের দরূদ আপনার কাছে পেশ করা হবে। যেহেতু আপনি (এক সময়) ওফাত পেয়ে যাবেন অর্থাৎ, তাঁরা বললেন, আপনার দেহ মাটির সাথে মিশে যাবে। তিনি বললেন, অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা মাটির জন্যে নবীগণের দেহ গ্রাস করা হারাম করে দিয়েছেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৩৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তোমাদের দিনের মধ্যে জুমার দিন উত্তম। এদিন আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এদিন তাঁর মৃত্যু হয়েছে, এদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে এবং এদিন কেয়ামত ঘটবে। এরপর তিনি জুমার দিনে তাঁর ওপর বেশি দরুদ পড়তে বলেছেন। কারণ, উম্মতের দরুদ তাঁর কাছে পেশ করা হয়। সাহাবীরা জানতে চান, ওফাতের পর কীভাবে তা পেশ করা হবে। তিনি বলেন, আল্লাহ মাটির জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করেছেন। এই হাদিসে জুমার মর্যাদা, দরুদের গুরুত্ব এবং নবীদের সম্মান—সবই স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার দিনকে উত্তম দিনের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে।
- জুমার দিনে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর ওপর বেশি দরুদ পড়ার নির্দেশ এসেছে।
- উম্মতের দরুদ নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পেশ করা হয়।
- নবীদের দেহ সম্পর্কে বিশেষ সম্মানের কথা হাদিসে এসেছে।
