৪/৪৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৭৯-[৯] - কারণ ছাড়া জুমা ত্যাগের ভয়
জুমার সালাত ফরজ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
কারণ ছাড়া জুমা ত্যাগের ভয়াবহ সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৩৭৯-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩৭৯-[৯]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: «مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةُ مِنْ غَيْرِ ضَرُوْرَةٍ كُتِبَ مُنَافِقًا فِي كِتَابٍ لَا يُمْحى وَلَا يُبَدَّلُ». وَفِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ ثَلَاثًا. رَوَاهُ الشَّافِعِي
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন কারণ ব্যতীত জুমার সালাত ছেড়ে দেয়, তার নাম এমন কিতাবে মুনাফিক হিসেবে লিখা হয় যা কখনো মুছে ফেলা যায় না, না পরিবর্তন করা যায়। কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে, তিন জুমা পরিত্যাগ করার কথা আছে (তার জন্য এ শাস্তি)। (ইমাম শাফি’ঈ) [১]
[১] য‘ঈফ : মুসনাদুশ্ শাফি‘ঈ ৩৮১, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ৬৫৭। এর সানাদে ইব্রাহীম ইবনু মুহাম্মাদ একজন মাতরূক রাবী এবং ইব্রাহীম ও ‘আবদুল্লাহ পিতা-পুত্র উভয়েই অপরিচিত রাবী।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৭৯-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি কোনো প্রয়োজন বা কারণ ছাড়া জুমু’আর সালাত ছেড়ে দেয়, তার নাম এমন কিতাবে মুনাফিক হিসেবে লেখা হয় যা মুছে ফেলা যায় না এবং পরিবর্তন করা যায় না। কিছু বর্ণনায় তিন জুমু’আ ত্যাগের কথাও এসেছে। হাদিসের ভাষা অত্যন্ত সতর্কতামূলক। তাই এর ব্যাখ্যায় মূল কথাটি হলো—কারণ ছাড়া জুমার সালাত বাদ দেওয়া ঈমানি জীবনের জন্য বড় বিপদ। এখানে ‘মুনাফিক’ শব্দ এসেছে, তাই এটিকে হালকা করে বলা যায় না; আবার কারও ওপর নিজে থেকে রায় দেওয়াও ঠিক নয়। মুমিনের কাজ হলো নিজের অবহেলা দেখে ভয় পাওয়া, তাওবা করা এবং জুমার সালাতে নিয়মিত হওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারণ ছাড়া জুমু’আর সালাত ত্যাগ করা গুরুতর সতর্কতার বিষয়।
- হাদিসে মুনাফিক হিসেবে লিখিত হওয়ার ভয় এসেছে।
- কিছু বর্ণনায় তিন জুমা ত্যাগের কথা উল্লেখ আছে।
- অন্যকে বিচার না করে নিজের আমল ঠিক করা বেশি জরুরি।
