৪/৪৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৮০-[১০] - জুমা কার ওপর ফরজ ও ব্যতিক্রম
জুমার সালাত ফরজ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
জুমা কার ওপর ফরজ: ব্যতিক্রম ও সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৩৮০-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩৮০-[১০]
وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ: «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الْاخِرِ فَعَلَيْهِ الْجُمُعَةُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلَّا مَرِيْضٌ أَو مُسَافِرٌ أَوْ صَبِيٌّ أَوْ مَمْلُوكٌ فَمَنِ اسْتَغْنى بِلَهْوٍ أَوْ تِجَارَةٍ اسْتَغْنَى اللّهُ عَنْهُ وَاللّهُ غَنِيٌّ حَمِيْدٌ». رَوَاهُ الدَّرَاقُطْنِىْ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার ওপর ও আখিরাতের ওপর ঈমান রাখে, তার জন্য জুমার দিনে জুমার সালাত আদায় করা অবশ্য কর্তব্য। তবে অসুস্থ, মুসাফির, নারী, নাবালেগ ও গোলামের ওপর ফরজ নয়। সুতরাং যারা খেল-তামাসা বা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে জুমার সালাত হতে উদাসীন থাকবে, আল্লাহ তা’আলাও তার দিক থেকে বিমুখ থাকবেন। আর আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, তিনি সুউচ্চ, প্রশংসিত। (দারাকুত্বনী) [১]
[১] য‘ঈফ : দারাকুত্বনী ১৫৭৬, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৫১৪৯, সুনানুল বায়হাক্বী আল কুবরা ৫৬৩৪, শু‘আবুল ঈমান ২৭৫৩। কারণ এর সানাদে ইবনু লাহ্ইয়া এবং মা‘আয ইবনু মুহাম্মাদ দু’জনই দুর্বল রাবী। আর আবুয্ যুবায়র মুদ্দালিস রাবী।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৮০-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমান রাখে, তার জন্য জুমু’আর দিনে জুমু’আর সালাত আদায় করা অবশ্য কর্তব্য। এরপর কিছু ব্যতিক্রম এসেছে—অসুস্থ, মুসাফির, নারী, নাবালেগ এবং গোলাম। হাদিসে আরও সতর্ক করা হয়েছে, যারা খেল-তামাশা বা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে জুমার সালাত থেকে উদাসীন থাকবে, আল্লাহ তাদের দিক থেকে বিমুখ থাকবেন। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন; তিনি সুউচ্চ ও প্রশংসিত। এই বর্ণনায় জুমার সালাতের ফরজিয়ত, দায়িত্বের ব্যতিক্রম এবং দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে সতর্কতা একসঙ্গে এসেছে। মুমিনের জন্য শিক্ষা হলো, ব্যবসা বা বিনোদন যেন জুমার সালাতকে পিছনে না ফেলে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমানের সঙ্গে জুমার দায়িত্ব জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
- অসুস্থ, মুসাফির, নারী, নাবালেগ ও গোলামের ব্যতিক্রম এসেছে।
- খেল-তামাশা বা ব্যবসা জুমার সালাত থেকে উদাসীন করতে পারে।
- আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন—এ কথা হাদিসে স্মরণ করানো হয়েছে।
