৪/৪৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৮১-[১১] - জুমার গোসল ও খুতবা শোনার ফজিলত
জুমার সালাত ফরজ - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
জুমার গোসল ও খুতবা শোনার ফজিলত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৩৮১-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩৮১-[১১]
عَنْ سَلْمَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَا يَغْتَسِلُ رَجُلٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَيَتَطَهَّرُ مَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ وَيَدَّهِنُ مِنْ دُهْنِه أَوْ يَمَسُّ مِنْ طِيْبِ بَيْتِه ثُمَّ يَخْرُجُ فَلَا يُفَرِّقُ بَيْنَ اثْنَيْنِ ثُمَّ يُصَلِّىْ مَا كُتِبَ لَه ثُمَّ يُنْصِتُ إِذَا تَكَلَّمَ الْإِمَامُ إِلَّا غُفِرَ لَه مَا بَيْنَه وَبَين الْجُمُعَة الْأُخْرى». رَوَاهُ البُخَارِيُّ
সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করবে, যতটুকু সম্ভব পবিত্রতা অর্জন করবে, তারপর নিজের তেল হতে তার শরীরে কিছু তেল মাখাবে, অথবা ঘরে সুগন্ধি থাকলে কিছু সুগন্ধি লাগাবে। তারপর মসজিদের দিকে রওনা হবে। দুই ব্যক্তির মধ্যে ফাঁক করবে না। যতটুকু সম্ভব সালাত (নফল) আদায় করবে। চুপচাপ বসে ইমামের খুতবা শুনবে। নিশ্চয় তার জুমা ও আগের জুমার মাঝখানের সব (সগীরাহ্) গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (বুখারী) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৮৮৩, শারহুস সুন্নাত ১০৫৮, সহীহ আত্ তারগীব ৬৮৯, সহীহ আল জামি‘ ৭৭৩৬।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৮১-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার দিনের কয়েকটি সুন্দর আদব একসাথে এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমার দিন গোসল করা, যতটুকু সম্ভব পবিত্রতা অর্জন করা, তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করা, তারপর শান্তভাবে মসজিদে যাওয়া বড় ফজিলতের কাজ। এখানে আরও বলা হয়েছে, মসজিদে গিয়ে দুইজনের মাঝে ফাঁক না করা, অর্থাৎ মানুষকে কষ্ট দিয়ে জায়গা না নেওয়া। এরপর যতটুকু সম্ভব নফল সালাত আদায় করা এবং ইমাম খুতবা দিলে চুপচাপ শোনা—এসব আমল জুমার সালাতকে সুন্দর করে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, জুমার গোসল, জুমার খুতবা শোনা এবং মসজিদের আদব রক্ষা করা মুমিনের জন্য গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার দিনে গোসল, পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম আদব।
- মসজিদে কাউকে কষ্ট দিয়ে বা দুইজনের মাঝে ফাঁক করে বসা উচিত নয়।
- ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে চুপচাপ শোনা জুমার গুরুত্বপূর্ণ আদব।
- এই আমলগুলো আগের জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সগীরাহ গুনাহ মাফের কারণ।
