৪/৪৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৮৯-[৩] - জুমার জন্য আলাদা পোশাক রাখার শিক্ষা
পবিত্রতা অর্জন ও সকাল সকাল মসজিদে গমন - প্রথম অনুচ্ছেদ
এ অধ্যায়ে পোশাক ও শরীর ময়লা থেকে পরিষ্কার করা এবং তার পূর্ণতা হলো তৈল ও সুগন্ধি লাগানো- এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।‘আন্ নিহায়া’ গ্রন্থেالتبكيرশব্দটি বাবে তাফ্‘ইল থেকে এসেছে, অর্থাৎ প্রথম ওয়াক্তে সালাত আদায় করা। প্রত্যেক বিষয় যা দ্রুত করা হয় তাইالتبكير।
জুমার দিনের জন্য আলাদা পোশাক রাখার আদব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৩৮৯-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩৮৯-[৩]
وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ سَلَامٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَا عَلى اَحَدِكُمْ إِنْ وَجَدَ أَنْ يَتَّخِذَ ثَوْبَيْنِ لِيَوْمِ الْجُمُعَةِ سِوى ثَوْبَيْ مَهْنَتِه». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ
আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কারো সামর্থ্য থাকলে, সে যেন তার কাজ-কর্মের পোশাক ছাড়া জুমার দিনের জন্য এক জোড়া পোশাক রাখে। (ইবনু মাজাহ্) [১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১০৭৮, ইবনু মাজাহ্ ১০৯৬, ইবনু খুযায়মাহ্ ১৭৬৫, সুনানুল বায়হাক্বী আল কুবরা ৫৯৫২, সহীহুল জামি‘ ৫৬৩৫।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৮৯-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার দিনের পোশাক নিয়ে সহজ ও বাস্তব একটি শিক্ষা এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কারো সামর্থ্য থাকলে সে যেন কাজ-কর্মের পোশাক ছাড়া জুমার দিনের জন্য এক জোড়া পোশাক রাখে। এখানে জোর করে কষ্ট নেওয়ার কথা নেই; বরং সামর্থ্য থাকলে জুমাকে সম্মান দিয়ে পরিষ্কার ও আলাদা পোশাক রাখার কথা বলা হয়েছে। জুমার দিন মুসলিমরা একত্র হয়, খুতবা শোনে, সালাত আদায় করে। তাই পরিচ্ছন্ন ও উপযুক্ত পোশাক এই দিনের আদবের সাথে মানানসই। হাদিসটি আমাদের শেখায়, জুমার প্রস্তুতি শুধু সময়মতো মসজিদে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নিজের পোশাক-পরিচ্ছদেও যত্ন থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সামর্থ্য থাকলে জুমার দিনের জন্য আলাদা পোশাক রাখা ভালো।
- কাজের পোশাক থেকে আলাদা পরিষ্কার পোশাক জুমার আদবের সাথে মানানসই।
- জুমার দিনকে সম্মান করা বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমেও প্রকাশ পায়।
- হাদিসটি সামর্থ্যের কথা বলেছে, তাই অযথা কষ্ট নেওয়ার কথা নেই।
