৪/৪৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৯৭-[১১] - খুতবার সময় কথা বলার কঠোর সতর্কতা
পবিত্রতা অর্জন ও সকাল সকাল মসজিদে গমন - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
খুতবার সময় কথা বলার ভয়াবহ ক্ষতি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৩৯৭-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩৯৭-[১১]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ تَكَلَّمَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَهُوَ كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا وَالَّذِىْ يَقُولُ لَه أَنْصِتْ لَيْسَ لَه جُمُعَةٌ». رَوَاهُ أَحْمَدُ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন খুতবার সময় কথা বলে, সে ভারবাহী গাধার মতো (বোঝা বহন করে, ফল ভোগ করতে পারে না)। আর যে ব্যক্তি অন্যকে চুপ করতে বলে তারও জুমু‘আহ্ নেই। (আহ্মাদ) [১]
[১] য‘ঈফ : আহমাদ ২০৩৩, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৪৪০। কারণ এর সানাদে রাবী মুজালিদ ইবনু সা‘ঈদ আল হামদানী-কে ইয়াহ্ইয়া আল ক্বত্ত্বান, ‘আবদুর রহমান বিন মাহদী, আহমাদ, ইবনু মা‘ঈন এবং নাসায়ী (রহঃ)-সহ আরো অনেকে দুর্বল বলেছেন। আর হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেছেন, সে শক্তিশালী নয়, জীবনের শেষ সময়ে তার স্মৃতিশক্তিতে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৯৭-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার খুতবার সময় কথা বলার বিষয়ে কঠোর ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমাম খুতবা দিচ্ছেন এমন সময় কথা বলে, সে ভারবাহী গাধার মতো। অর্থাৎ সে বোঝা বহন করে, কিন্তু সঠিকভাবে লাভ নিতে পারে না—এমন একটি কঠোর উপমা দেওয়া হয়েছে। হাদিসে আরও এসেছে, যে ব্যক্তি অন্যকে ‘চুপ থাকো’ বলে, তারও জুমা নেই। এই কথাটি জুমার খুতবার সময় নীরবতার গুরুত্ব বোঝায়। খুতবা শুনতে এসে কথা বলা, মন্তব্য করা বা অন্যকে নির্দেশ দেওয়া—এসব থেকে দূরে থাকা দরকার। জুমার খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা একটি বড় আদব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমাম খুতবা দিলে কথা বলা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে।
- খুতবার সময় অন্যকে ‘চুপ থাকো’ বলাও ক্ষতির কারণ হিসেবে এসেছে।
- খুতবা শোনা মানে নীরব থাকা ও মনোযোগ ধরে রাখা।
- জুমার ফজিলত পেতে বেহুদা কথা এড়িয়ে চলা দরকার।
