৪/৪৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৯৬-[১০] - জুমায় উপস্থিত তিন ধরনের মানুষ
পবিত্রতা অর্জন ও সকাল সকাল মসজিদে গমন - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
জুমায় উপস্থিত তিন ধরনের মানুষের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৩৯৬-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩৯৬-[১০]
وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: يَحْضُرُ الْجُمُعَةَ ثَلَاثَةُ نَفَرٍ: فَرَجُلٌ حَضَرَهَا بِلَغْوٍ فَذلِكَ حَظُّه مِنْهَا. وَرَجُلٌ حَضَرَهَا بِدُعَاءٍ فَهُوَ رَجُلٌ دَعَا اللّهَ إِنْ شَاءَ أَعْطَاهُ وَإِنْ شَاءَ مَنَعَه. وَرَجُلٌ حَضَرَه بِإِنْصَاتٍ وَسُكُوتٍ وَلَمْ يَتَخَطَّ رَقَبَةَ مُسْلِمٍ وَلَمْ يُؤْذِ أَحَدًا فَهِيَ كَفَّارَةٌ إِلَى الْجُمُعَةِ الَّتِىْ تَلِيهَا وَزِيَادَةِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ وَذلِكَ بِأَنَّ اللّهَ يَقُولُ: ﴿مَنْ جَاۤءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهٗ عَشْرُ أَمْثَالِهَا﴾ [الأنعام 6 : 160] رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তিন প্রকারের লোক জুমু’আর সালাতে উপস্থিত হয়। এক প্রকার হলো, যারা বেহুদা কথাবার্তায় লিপ্ত হয়ে হাজির হয়। জুমু’আর দ্বারা তাদের এটাই হয় লাভ। দ্বিতীয় প্রকারের লোক হলো, আল্লাহর কাছে কিছু চাইতে চাইতে হাজির হয়। এরা এমন লোক, যারা আল্লাহর কাছে নিজেদের উদ্দেশ্য সাধন করতে চায়। আল্লাহ চাইলে তাদের তা দান করতে পারেন। আর ইচ্ছা না করলে নাও দিতে পারেন।তৃতীয় প্রকারের লোক হলো, শুধু জুমু’আর সালাতের উদ্দেশ্যে নিরবতার সাথে মসজিদে উপস্থিত হয়। সামনে যাবার জন্য কারো ঘাড় টপকায় না। কাউকে কোন কষ্ট দেয় না। এ ধরনের লোকদের এ জুমু’আহ্ থেকে পরবর্তী জুমু’আহ্ পর্যন্ত সময়ে (সগীরাহ্) গুনাহের কাফ্ফারাহ্ হয়ে যায়। তাছাড়া আর অতিরিক্ত তিন দিনের কাফ্ফারাহ্ হবে এজন্য যে, আল্লাহ তা’আলা বলেন,“যে ব্যক্তি কোন উত্তম কাজ করবে তার জন্য এর দশ গুণ প্রতিদান রয়েছে”-(সূরা আল আন্’আম ৬:১৬০)।(আবূ দাউদ) [১]
[১] হাসান : আবূ দাঊদ ১১১৩, সুনানুল বায়হাক্বী আল কুবরা ৫৮৩১, শু‘আবুল ঈমান ২৭৪২, সহীহ আত্ তারগীব ৭২৩, সহীহ আল জামি‘ ৮০৪৫।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৯৬-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার সালাতে উপস্থিত মানুষের তিন ধরনের অবস্থা বলা হয়েছে। প্রথম ব্যক্তি বেহুদা কথাবার্তা বা কাজে লিপ্ত হয়ে আসে; তার জুমা থেকে লাভও ওইটুকুই হয়। দ্বিতীয় ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু চাইতে চাইতে আসে; আল্লাহ চাইলে দেন, না চাইলে দেন না। তৃতীয় ব্যক্তি শুধু জুমার সালাতের উদ্দেশ্যে নীরবতার সাথে আসে, কারো ঘাড় টপকায় না এবং কাউকে কষ্ট দেয় না। এই ব্যক্তির জন্য এ জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহের কাফফারাহর কথা এসেছে। হাদিসটি জুমার মূল আদবগুলো একসাথে শেখায়—নীরবতা, খুতবা শোনা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া এবং বেহুদা কাজ থেকে দূরে থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমায় বেহুদা কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।
- দোআ করা ভালো, তবে হাদিসে ফল আল্লাহর ইচ্ছার সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
- নীরবতা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া এবং ঘাড় না টপকানো জুমার গুরুত্বপূর্ণ আদব।
- আদবসহ জুমায় উপস্থিত হওয়া গুনাহের কাফফারাহর কারণ হতে পারে।
