৪/৫১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫০৭-[৬] - উপকারী বৃষ্টির দোয়া
সিজদায়ে শুকর - প্রথম অনুচ্ছেদ
সালাতের বাইরে স্বতন্ত্র সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) তন্মধ্যে বালা-মুসীবাত দূরীভূত অর্জিত নি‘আমাতের বিনিময়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) এ ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে। শাফি‘ঈ ও আহমাদের নিকট সুন্নাহ এবং এটা মুহাম্মাদ-এর উক্তি আর এ ব্যাপারে অসংখ্য হাদীস ও আসার বিদ্যমান। আবূ হানীফাহ্ ও মালিক-এর নিকট সুন্নাহ না, বরং তা মাকরূহ আর তাদের মতে উল্লেখিত সিজদা্ দ্বারা সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) উদ্দেশ্য।প্রকৃতপক্ষে তাতে অংশ বিশেষ উল্লেখ করে গোটা বিষয়কে বুঝানো হয়েছে। এরূপ বহু ব্যবহার হয় যে অংশবিশেষকে নিয়ে গোটা বিষয়কে বুঝানো হয়। অথবা সিজদা্ শুকুর বিষয়টি রহিত হয়েছে। বা আল্লাহ তা‘আলা অসংখ্য অগণিত নি‘আমাতের মধ্যে যদি প্রতিটি নি‘আমাতের জন্য সিজদা্ করা হয় তাহলে বান্দা তা কৃতজ্ঞতা প্রকাশে অপরাগ হবে। আর মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেন, বড় কোন নি‘আমাতের সুসংবাদের সময় এবং শারীরিক মুসীবাত দূরীভূতীর সময় কৃতজ্ঞতার সিজদা্ সুন্নাহ।সিনদী বলেন, এ বিষয়ে হাদীসসমূহের সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সিজদা্ শারী‘আত সম্মত। আর ইমাম শাওকানী নায়লুল আওতারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সিজদা্ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ উল্লেখের পর বলেন যে, এ সকল হাদীস প্রমাণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সিজদা্ শারী‘আত সম্মত।
উপকারী বৃষ্টির জন্য নবীজির দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫০৭-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫০৭-[৬]
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يُوَاكِئُ فَقَالَ: «اللّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيْثًا مَرِيْئًا مُرِيعًا نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ عَاجِلًا غَيْرَ اجِلٍ». قَالَ: فَأَطْبَقَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ইস্তিস্ক্বার সালাতে হাত বাড়িয়ে এ কথা বলতে দেখেছি "হে আল্লাহ! আমাদেরকে পানি দাও। যে পানি সুপেয়, ফসল উৎপাদনকারী, উপকারী, অনিষ্টকারী নয়। দ্রুত আগমনকারী, বিলম্বকারী নয়।" (বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা বলতে না বলতেই) তাদের ওপর আকাশ বর্ষণ শুরু করে দিলো। (আবু দাউদ) [১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১১৬৯, সহীহ আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১৫২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫০৭-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
জাবির রাযি. বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে ইস্তিসকার সালাতে হাত বাড়িয়ে দোয়া করতে দেখেছেন। নবীজি صلى الله عليه وسلم এমন বৃষ্টি চেয়েছেন যা সুপেয়, ফসল উৎপাদনকারী, উপকারী এবং ক্ষতিকর নয়। তিনি দ্রুত বৃষ্টি চেয়েছেন, বিলম্বিত নয়। বর্ণনাকারী বলেন, এই দোয়ার পর আকাশ তাদের ওপর বর্ষণ শুরু করে। এই হাদিসে বৃষ্টির দোয়ার ভাষা খুব স্পষ্ট। শুধু বৃষ্টি চাওয়াই নয়; বরং ভালো, কল্যাণকর, ফসলদায়ক এবং ক্ষতিহীন বৃষ্টি চাওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যায়, মুমিন আল্লাহর কাছে প্রয়োজন চায়, তবে সেই প্রয়োজন যেন কল্যাণের পথে আসে—সেটিও চায়। বৃষ্টির জন্য দোয়া ও ইস্তিসকার আমল জানতে চাইলে এই বর্ণনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাই বৃষ্টি চাইলে সেটি যেন উপকারী হয়—এই চিন্তা দোয়ার ভেতর রাখা নববী শিক্ষার অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বৃষ্টির জন্য দোয়ার সময় উপকারী বৃষ্টি চাওয়া হয়েছে।
- নবীজি صلى الله عليه وسلم ক্ষতিকর বৃষ্টি নয়, কল্যাণকর বৃষ্টি চেয়েছেন।
- দোয়ার ভাষায় প্রয়োজনের পাশাপাশি নিরাপত্তার আবেদনও থাকে।
