৪/৫২. অধ্যায়ঃ
বৃষ্টির জন্য সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
(الاسْتِسْقَاء) শাব্দিক অর্থ হল নিজের জন্য অথবা অন্যের জন্য অপর কারও কাছে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পানি চাওয়া। আর শারী’আতের পরিভাষায় হাদীসসমূহের আলোকে সুস্পষ্ট পন্থায় অনাবৃষ্টির সময় আল্লাহর নিকট বৃষ্টি অমেবষণ করা। কুসতুলানী বলেন, ইসতিসক্বা তিনভাবে।প্রথমতঃ সাধারণ দু’আ সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ব্যতিরেকে একাকী অথবা একত্রিতভাবে।দ্বিতীয়তঃ (প্রথম পদ্ধতির চেয়ে ভাল) সালাত শেষে দু’আ যদিও সে সালাত নফল সালাত হয় তবে ইমাম নাবাবী এটা ফরয সালাত ও জুমু’আর খুতবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।তৃতীয়তঃ এটা উত্তম ও পরিপূর্ণ আর তা হবে দু’ রাক্’আত সালাত ও দু’ খুতবার মাধ্যমে হবে। আর নাবাবী বলেন, বৃষ্টি প্রার্থনা সালাতের পূর্বে সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করা। সওম পালন করা, তওবা্ করা। কল্যাণসূচক কাজে অগ্রগামী হওয়া। খারাপ কাজ হতে বিরত হওয়া ও অনুরূপ কাজ করা আল্লাহর আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত। শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছিলেন তাঁর উম্মাতের জন্য বেশ কয়েকবার অসংখ্য প্রান্তে। আর তাঁর উম্মাতের জন্য এ পদ্ধতিতে চালু রেখেছেন যে, তিনি বের হতেন জনগণকে নিয়ে ঈদগাহের উদ্দেশে অত্যন্ত বিনয়ী, অনুনয়কারী ও কাতরভাবে। অতঃপর তাদেরকে নিয়ে দু’ রাক্’আত সালাত আদায় করতেন সশব্দে ক্বিরাআতে, অতঃপর খুতবাহ্ প্রদান করতেন এবং ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয়ে দু’আ করতেন, দু’হাত তুলতেন এবং তাঁর চাদর উল্টাতেন। কেননা মুসলিমদের একই স্থানে একই উদ্দেশে আগ্রহী হয়ে একত্রিত হওয়া সর্বোচ্চ অভিপ্রায়, ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভাল কাজগুলো দু’আ কবূলে ভূমিকা রাখে। আর সালাতেই বান্দার জন্য আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার অন্যতম মাধ্যম আর হাত উত্তোলন পরিপূর্ণ বিনয়ের চিত্র এবং সর্বোচ্চ কাকুতি ব্যক্তিকে ভয়ের সতর্ক করে আর চাদর উল্টানোর বিষয়টি তাদের অবস্থার পরিবর্তন ফুটে উঠে যেমন রাজাদের সামনে আবেদনকারী করে থাকে।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ১৫০৮-[১]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১৫০৮-[১]
عَن عَائِشَة قَالَتْ: شَكَا النَّاسُ إِلى رَسُولِ اللّهِ ﷺ قُحُوطَ الْمَطَرِ فَأَمَرَ بِمِنْبَرٍ فَوُضِعَ لَه فِي الْمُصَلّى وَوَعَدَ النَّاسَ يَوْمًا يَخْرُجُونَ فِيهِ. قَالَتْ عَائِشَةُ: فَخَرَجَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ حِينَ بَدَا حَاجِبُ الشَّمْسِ فَقَعَدَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَكَبَّرَ وَحَمِدَ اللّهَ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ قَالَ: «إِنَّكُمْ شَكَوْتُمْ جَدْبَ دِيَارِكُمْ وَاسْتِئْخَارَ الْمَطَرِ عَنْ إِبَّانِ زَمَانِه عَنْكُمْ وَقَدْ أَمَرَكُمُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَدْعُوهُ وَوَعَدَكُمْ أَنْ يَسْتَجِيبَ لَكُمْ» . ثُمَّ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ ملِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ اللّهُمَّ أَنْتَ اللّهُ لَا إِلهَ إِلَّا أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ. أَنْزِلْ عَلَيْنَا الْغَيْثَ وَاجْعَلْ مَا أَنْزَلْتَ لَنَا قُوَّةً وَبَلَاغًا إِلى حِينٍ» ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ فَلَمْ يَتْرُكِ الرَّفْعَ حَتّى بَدَا بَيَاضُ إِبِطَيْهِ ثُمَّ حَوَّلَ إِلَى النَّاسِ ظَهْرَه وَقَلَبَ أَوْ حَوَّلَ رِدَاءَه وَهُوَ رَافِعُ يَدَيْهِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ وَنَزَلَ فَصَلّى رَكْعَتَيْنِ فَأَنْشَأَ اللّهُ سَحَابَةً فَرَعَدَتْ وَبَرَقَتْ ثُمَّ أَمْطَرَتْ بِإِذْنِ اللّهِ فَلَمْ يَأْتِ مَسْجِدَه حَتّى سَالَتِ السُّيُولُ فَلَمَّا رَأَى سُرْعَتَهُمْ إِلَى الْكِنِّ ضَحِكَ ﷺ حَتّى بَدَتْ نَوَاجِذُه فَقَالَ: «أَشْهَدُ أَنَّ اللّهَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ وَأَنِّي عَبْدُ اللّهِ وَرَسُولُه» . رَوَاهُ أَبُوْ دَاوُدَ
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
লোকজন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে অনাবৃষ্টির কষ্টের কথা নিবেদন করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদগাহে মিম্বার আনার জন্য নির্দেশ দিলেন। বস্তুতঃ মিম্বার আনা হলো। তিনি লোকজনদেরকে একদিন ঈদগাহে আসার জন্য সময় ঠিক করে দিলেন। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, নির্দিষ্ট দিনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্যকিরণ দেখা দেবার সাথে সাথে ঈদগাহে চলে গেলেন। মিম্বারে আরোহণ করে তাকবির দিলেন। আল্লাহর গুণকীর্তন বর্ণনা করে বললেন, তোমরা তোমাদের শহরের আকাল, সময় মতো বৃষ্টি না হবার অভিযোগ করেছ। আল্লাহ তা'আলা এখন তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন। তোমরা তার কাছে দোয়া করো। তিনি তোমাদের দোয়া কবুল করবেন বলে ওয়াদা করেছেন।তারপর তিনি বললেন, "আলহামদু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন, আর রহমা-নির রহীম, মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন, লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ইয়াফ'আলু মা-ইউরীদুল্ল-হুম্মা আনতাল্ল-হু লা-ইলা-হা ইল্লা-আনতাল গনিয়্যু ওয়া নাহ্নুল ফুকারা-উ, আনযিল আলায়নাল গয়সা ওয়াজ'আল মা-আনযালতা লানা-ক্যুওয়াতান ওয়াবালা-গান ইলাহীন" (অর্থাৎ সকল প্রশংসা আল্লাহর। তিনি সারা বিশ্বের পালনকর্তা, মেহেরবান ও ক্ষমাকারী। প্রতিদান দিবসের মালিক। আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা’বুদ নেই। তিনি যা চান তা-ই করেন। হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া আর কোন মাবূদ নেই। তুমি অমুখাপেক্ষী। আর আমরা কাঙ্গাল, তোমার মুখাপেক্ষী। আমাদের ওপর তুমি বৃষ্টি বর্ষণ করো। আর যে জিনিস (বৃষ্টি) তুমি অবতীর্ণ করবে তা আমাদের শক্তির উপায় ও দীর্ঘকালের পাথেয় করো)।এরপর তিনি তার দু'হাত উঠালেন। এত উঠালেন যে, তার বগলের উজ্জ্বলতা দেখা গেল। তারপর তিনি জনগণের দিকে পিঠ ফিরিয়ে নিজের চাদর ঘুরিয়ে নিলেন। তখনো তার দু হাত ছিল উঠানো। আবার লোকজনের দিকে মুখ ফিরালেন এবং মিম্বার হতে নেমে গেলেন। দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। আল্লাহ তা'আলা তখন মেঘের ব্যবস্থা করলেন। মেঘের গর্জন শুরু হলো। বিদ্যুৎ চমকাতে লাগল।অতঃপর আল্লাহর নির্দেশে বর্ষণ শুরু হলো। তিনি তাঁর মসজিদ পর্যন্ত পৌছার পূর্বেই বৃষ্টির ঢল নেমে গেল। এ সময় তিনি মানুষদেরকে বৃষ্টি থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য দৌড়াতে দেখে হেসে ফেললেন। এতে তাঁর সামনের দাঁতগুলো দৃষ্টিগোচর হতে থাকল। তিনি (ﷺ) তখন বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। আর আমি এ সাক্ষীও দিচ্ছি যে, আমি তার বান্দা ও রাসূল। (আবু দাউদ) [১]
[১] হাসান : আবূ দাঊদ ১১৭৩, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ৫৪৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৪০৯, সহীহ আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১৫২, শারহু মা‘আনীর আসার ১৯০৬, ইবনু হিব্বান ৯৯১, ইরওয়া ৬৬৮।
