৪/৫২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫০৯-[২] - আব্বাস রাযি.-এর মাধ্যমে বৃষ্টির দোয়া
বৃষ্টির জন্য সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
(الاسْتِسْقَاء) শাব্দিক অর্থ হল নিজের জন্য অথবা অন্যের জন্য অপর কারও কাছে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পানি চাওয়া। আর শারী‘আতের পরিভাষায় হাদীসসমূহের আলোকে সুস্পষ্ট পন্থায় অনাবৃষ্টির সময় আল্লাহর নিকট বৃষ্টি অমেবষণ করা। কুসতুলানী বলেন, ইসতিসক্বা তিনভাবে।প্রথমতঃ সাধারণ দু‘আ সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ব্যতিরেকে একাকী অথবা একত্রিতভাবে।দ্বিতীয়তঃ (প্রথম পদ্ধতির চেয়ে ভাল) সালাত শেষে দু‘আ যদিও সে সালাত নফল সালাত হয় তবে ইমাম নাবাবী এটা ফরয সালাত ও জুমু‘আর খুতবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।তৃতীয়তঃ এটা উত্তম ও পরিপূর্ণ আর তা হবে দু’ রাক্‘আত সালাত ও দু’ খুতবার মাধ্যমে হবে। আর নাবাবী বলেন, বৃষ্টি প্রার্থনা সালাতের পূর্বে সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করা। সওম পালন করা, তওবা্ করা। কল্যাণসূচক কাজে অগ্রগামী হওয়া। খারাপ কাজ হতে বিরত হওয়া ও অনুরূপ কাজ করা আল্লাহর আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত।শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলবী বলেন, নবী (ﷺ) বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছিলেন তাঁর উম্মাতের জন্য বেশ কয়েকবার অসংখ্য প্রান্তে। আর তাঁর উম্মাতের জন্য এ পদ্ধতিতে চালু রেখেছেন যে, তিনি বের হতেন জনগণকে নিয়ে ঈদগাহের উদ্দেশে অত্যন্ত বিনয়ী, অনুনয়কারী ও কাতরভাবে। অতঃপর তাদেরকে নিয়ে দু’ রাক্‘আত সালাত আদায় করতেন সশব্দে ক্বিরাআতে, অতঃপর খুতবাহ্ প্রদান করতেন এবং ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয়ে দু‘আ করতেন, দু’হাত তুলতেন এবং তাঁর চাদর উল্টাতেন। কেননা মুসলিমদের একই স্থানে একই উদ্দেশে আগ্রহী হয়ে একত্রিত হওয়া সর্বোচ্চ অভিপ্রায়, ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভাল কাজগুলো দু‘আ কবূলে ভূমিকা রাখে। আর সালাতেই বান্দার জন্য আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার অন্যতম মাধ্যম আর হাত উত্তোলন পরিপূর্ণ বিনয়ের চিত্র এবং সর্বোচ্চ কাকুতি ব্যক্তিকে ভয়ের সতর্ক করে আর চাদর উল্টানোর বিষয়টি তাদের অবস্থার পরিবর্তন ফুটে উঠে যেমন রাজাদের সামনে আবেদনকারী করে থাকে।
অনাবৃষ্টিতে আব্বাস রাযি.-এর ওসীলায় দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫০৯-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫০৯-[২]
وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ إِذْ قُحِطُوْا اسْتَسْقى بِالْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَقَالَ: اللّهُمَّ إِنَّا كُنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّنَا فَتَسْقِينَا وَإِنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِعَمِّ نَبِيِّنَا فَاسْقِنَا. قَالَ: فَيُسْقَوْنَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উমর ইবনুল খাত্ত্বাব, লোকেরা অনাবৃষ্টির কবলে পতিত হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চাচা ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্ত্বালিব-এর ওয়াসীলায় আল্লাহর নিকট বৃষ্টির জন্য দোয়া করতেন। তিনি বলতেন, হে আল্লাহ! তোমার নিকট এতদিন আমরা আমাদের নবীর মধ্যমতা পেশ করতাম। তুমি আমাদেরকে বৃষ্টি দিয়ে পরিতৃপ্ত করতে। এখন আমরা তোমার নিকট আমাদের নবীর চাচার ওয়াসীলা পেশ করছি। তুমি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করো। (বুখারী) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১০১০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৪২৭, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১১৬৫।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫০৯-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস রাযি. বর্ণনা করেছেন, মানুষ অনাবৃষ্টিতে পড়লে উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. নবী صلى الله عليه وسلم-এর চাচা আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব রাযি.-এর ওসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে বৃষ্টির দোয়া করতেন। তিনি বলতেন, আগে আমরা আমাদের নবীর মাধ্যমে তোমার কাছে দোয়া করতাম, তুমি আমাদের বৃষ্টি দিতে। এখন আমরা আমাদের নবীর চাচার মাধ্যমে তোমার কাছে দোয়া করছি, তুমি আমাদের বৃষ্টি দাও। বর্ণনায় এসেছে, এরপর তাদেরকে বৃষ্টি দেওয়া হতো। এই হাদিসের মূল কথা হলো, অনাবৃষ্টির সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং নেক মানুষের সম্মানকে সামনে রেখে আল্লাহর রহমত চাওয়া। এখানে সব ফল আল্লাহর কাছ থেকেই আসে—এই বিশ্বাসও স্পষ্ট। তাই এই বর্ণনায় দোয়ার ভাষা, আল্লাহর প্রতি ভরসা এবং নেকজনের সম্মানের বিষয় একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অনাবৃষ্টির সময় উমর রাযি. আল্লাহর কাছে বৃষ্টির দোয়া করতেন।
- আব্বাস রাযি.-এর সম্মানকে সামনে রেখে দোয়া করার বর্ণনা এসেছে।
- বৃষ্টি দানকারী একমাত্র আল্লাহ—এই বিশ্বাস হাদিসে স্পষ্ট।
