৪/৫২. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫১০-[৩] - পিপীলিকার দোয়া ও বৃষ্টি

বৃষ্টির জন্য সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ

(الاسْتِسْقَاء) শাব্দিক অর্থ হল নিজের জন্য অথবা অন্যের জন্য অপর কারও কাছে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পানি চাওয়া। আর শারী‘আতের পরিভাষায় হাদীসসমূহের আলোকে সুস্পষ্ট পন্থায় অনাবৃষ্টির সময় আল্লাহর নিকট বৃষ্টি অমেবষণ করা। কুসতুলানী বলেন, ইসতিসক্বা তিনভাবে।প্রথমতঃ সাধারণ দু‘আ সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ব্যতিরেকে একাকী অথবা একত্রিতভাবে।দ্বিতীয়তঃ (প্রথম পদ্ধতির চেয়ে ভাল) সালাত শেষে দু‘আ যদিও সে সালাত নফল সালাত হয় তবে ইমাম নাবাবী এটা ফরয সালাত ও জুমু‘আর খুতবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।তৃতীয়তঃ এটা উত্তম ও পরিপূর্ণ আর তা হবে দু’ রাক্‘আত সালাত ও দু’ খুতবার মাধ্যমে হবে। আর নাবাবী বলেন, বৃষ্টি প্রার্থনা সালাতের পূর্বে সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করা। সওম পালন করা, তওবা্ করা। কল্যাণসূচক কাজে অগ্রগামী হওয়া। খারাপ কাজ হতে বিরত হওয়া ও অনুরূপ কাজ করা আল্লাহর আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত।শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলবী বলেন, নবী (ﷺ) বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছিলেন তাঁর উম্মাতের জন্য বেশ কয়েকবার অসংখ্য প্রান্তে। আর তাঁর উম্মাতের জন্য এ পদ্ধতিতে চালু রেখেছেন যে, তিনি বের হতেন জনগণকে নিয়ে ঈদগাহের উদ্দেশে অত্যন্ত বিনয়ী, অনুনয়কারী ও কাতরভাবে। অতঃপর তাদেরকে নিয়ে দু’ রাক্‘আত সালাত আদায় করতেন সশব্দে ক্বিরাআতে, অতঃপর খুতবাহ্ প্রদান করতেন এবং ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয়ে দু‘আ করতেন, দু’হাত তুলতেন এবং তাঁর চাদর উল্টাতেন। কেননা মুসলিমদের একই স্থানে একই উদ্দেশে আগ্রহী হয়ে একত্রিত হওয়া সর্বোচ্চ অভিপ্রায়, ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভাল কাজগুলো দু‘আ কবূলে ভূমিকা রাখে। আর সালাতেই বান্দার জন্য আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার অন্যতম মাধ্যম আর হাত উত্তোলন পরিপূর্ণ বিনয়ের চিত্র এবং সর্বোচ্চ কাকুতি ব্যক্তিকে ভয়ের সতর্ক করে আর চাদর উল্টানোর বিষয়টি তাদের অবস্থার পরিবর্তন ফুটে উঠে যেমন রাজাদের সামনে আবেদনকারী করে থাকে।

পিপীলিকার দোয়া ও আল্লাহর রহমত

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫১০-[৩]

وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُولُ: «خَرَجَ نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ بِالنَّاسِ يَسْتَسْقِىْ فَإِذَا هُوَ بِنَمْلَةٍ رَافِعَةً بَعْضَ قَوَائِمِهَا إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ: ارْجِعُوا فَقَدِ اسْتُجِيبَ لَكُمْ مِنْ أَجْلِ هذِهِ النَّمْلَةِ ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, নবীদের মধ্যে একজন নবী ইস্তিস্ক্বার (সালাত) আদায়ের জন্য লোকজন নিয়ে বের হয়েছিলেন। হঠাৎ তিনি একটি পিপীলিকা দেখতে পেলেন। পিপড়াটি তার দুটি পা আকাশের দিকে উঠিয়ে রেখেছে। (অর্থাৎ পিপীলিকাটি বৃষ্টির জন্য দোয়া করছে)। এ দৃশ্য দেখে উক্ত নবী (আঃ) লোকদেরকে বললেন, তোমরা ফিরে চলো। এ পিপড়াটির দোয়ার কারণে তোমাদের দোয়া কবুল হয়ে গেছে। (দারাকুত্বনী) [১]

[১] য‘ঈফ : দারাকুত্বনী ১৭৯৭, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ২৮২৩। মুসতাদরাক লিল হাকিম ১২১৫। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেছেন, হাদীসের সানাদে মুহাম্মাদ ইবনু ‘আওন রয়েছে যিনি আমার নিকট একজন অপরিচিত রাযী।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫১০-[৩]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم পূর্বের এক নবীর ঘটনা বলেছেন। তিনি বৃষ্টির জন্য লোকজন নিয়ে বের হয়েছিলেন। পথে তিনি একটি পিপীলিকা দেখেন, যার কিছু পা আকাশের দিকে উঠানো ছিল। অর্থাৎ সেটিও বৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছিল। তখন সেই নবী লোকদের বলেন, তোমরা ফিরে চলো; এই পিপীলিকার কারণে তোমাদের দোয়া কবুল হয়েছে। এই বর্ণনা আমাদের সামনে এক গভীর শিক্ষা রাখে, তবে ভাষা খুব সহজ। আল্লাহর দরজায় মানুষের মতো অন্য সৃষ্টিও প্রয়োজন নিয়ে দাঁড়ায়। বৃষ্টি শুধু মানুষের জন্য নয়; ছোট পিপীলিকা, পশু, জমিন—সবাই এর মুখাপেক্ষী। দোয়ার গুরুত্ব, আল্লাহর রহমত এবং সৃষ্টির অসহায়ত্ব এই হাদিসে সুন্দরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তাই ছোট কোনো সৃষ্টি দেখেও আল্লাহর রহমত ও তাঁর কাছে সবার প্রয়োজনের কথা মনে করা উচিত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আল্লাহর কাছে ছোট সৃষ্টির দোয়াও গুরুত্ব পেতে পারে।
  • বৃষ্টি সব সৃষ্টির প্রয়োজন, শুধু মানুষের নয়।
  • দোয়া কবুল হওয়া আল্লাহর রহমত ও ইচ্ছার সঙ্গে জড়িত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন