৪/৫২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫১১-[৪] - পূবী বাতাস ও আদ জাতির ধ্বংস
বৃষ্টির জন্য সালাত - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
বাতাস কখন রহমত, কখন সতর্কবার্তা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫১১-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫১১-[৪]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «نُصِرْتُ بِالصَّبَا وَأُهْلِكَتْ عَادٌ بِالدَّبُوْرِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি পূরবী বাতাস দিয়ে উপকৃত হয়েছি। আর ‘আদ জাতি পশ্চিমা বাতাস দিয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১০৩৫, ৩২০৫, ৩৩৪৩, ৪১০৫, মুসলিম ৯০০, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩১৬৪৬, আহমাদ ২০১৩, ইবনু হিব্বান ৬৪২১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৪৮৪, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১১৪৯, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৬৭৬২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫১১-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
ইবনু আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তিনি পূবী বাতাস দ্বারা উপকৃত হয়েছেন এবং আদ জাতি পশ্চিমা বাতাস দ্বারা ধ্বংস হয়েছে। এই ছোট বর্ণনায় বাতাস সম্পর্কে বড় শিক্ষা আছে। বাতাস আল্লাহর সৃষ্টি; কখনো তা সাহায্যের মাধ্যম হয়, আবার কখনো আল্লাহর শাস্তির মাধ্যমও হতে পারে। তাই বাতাস দেখলে মুমিনের মন শুধু আনন্দ বা ভয়েই সীমিত থাকে না; বরং আল্লাহর কুদরত মনে করে। এই হাদিস বাতাসের দোয়া, ঝড়ো হাওয়ার আমল এবং আদ জাতির ঘটনা সম্পর্কিত হাদিসগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বোঝা যায়। তবে এই বর্ণনায় সরাসরি যে কথাটি আছে তা হলো—একই ধরনের প্রাকৃতিক শক্তি আল্লাহর হুকুমে ভিন্ন ফল নিয়ে আসে। তাই বাতাস দেখলে ভয় ও আশা—দুটিই আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত করে দেখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাতাস আল্লাহর হুকুমে উপকারের মাধ্যম হতে পারে।
- আদ জাতির ধ্বংসের কথা বাতাসের শক্তি স্মরণ করায়।
- প্রাকৃতিক ঘটনা দেখলে আল্লাহর কুদরত মনে করা উচিত।
