৪/৫২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫১৩-[৬] - ঝড়ো হাওয়ার কল্যাণ চাওয়া
বৃষ্টির জন্য সালাত - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ঝড়ো হাওয়ার দোয়া ও নবীজির সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫১৩-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫১৩-[৬]
وَعَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا عَصَفَتِ الرِّيْحُ قَالَ: «اللّهُمَّ إِنِّىْ أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِه وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيْهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِه» وَإِذَا تَخَيَّلَتِ السَّمَاءُ تَغَيَّرَ لَوْنُه وَحَرَجَ وَدَخَلَ وَأَقْبَلَ وَأَدْبَرَ فَإِذَا مَطَرَتْ سُرِّيَ عَنْهُ فَعَرَفَتْ ذلِكَ عَائِشَةُ فَسَأَلَتْهُ فَقَالَ: «لَعَلَّه يَا عَائِشَةُ كَمَا قَالَ قَوْمُ عَادٍ: ﴿فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا: هذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا﴾ [الأحقاف 46 :24]».وَفِي رِوَايَةٍ: وَيَقُولُ إِذَا رَأَى الْمَطَرَ «رَحْمَةً». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করলে নবী (ﷺ) বলতেন, “আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা খয়রহা-ওয়া খয়রা মা-ফীহা-ওয়া খয়রা মা-উরসিলাত বিহী ওয়া আ’উযুবিকা মিন শাররিহা-ওয়া শারারি মা-ফীহা-ওয়া শাররি মা-উরসিলাত বিহী” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এ ঝড়ো হাওয়ার কল্যাণের দিক কামনা করছি। কামনা করছি এর মধ্যে যা কিছু কল্যাণ নিহিত রয়েছে। যে কারণে এ ঝড়ো হাওয়া পাঠানো হয়েছে সে কল্যাণ চাই। আমি আশ্রয় চাই তোমার নিকট এর ক্ষতির দিক থেকে এবং এতে যা কিছু ক্ষতি নিহিত আছে এবং যে ক্ষতির জন্য তা পাঠানো হয়েছে তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি)।(‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন) আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গেলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে যেত। তিনি বিপদের ভয়ে একবার বের হয়ে যেতেন। আবার প্রবেশ করতেন। কখনো সামনে আসতেন। কখনো পেছনে সরতেন। বৃষ্টি শুরু হলে তাঁর উৎকণ্ঠা কমে যেত। বর্ণনাকারী বলেন, একবার আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ উৎকণ্ঠা অনুভূত হলে তিনি তাঁর নিকট এর কারণ জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, হে ‘আয়িশাহ্। এ ঝড়ো হাওয়া এমনতো হতে পারে যা "আদ জাতি ভেবে ছিল।আল্লাহ তা'আলা কোরআনে বলেন, “তাঁরা যখন একে তাদের মাঠের দিকে আসতে দেখল, বললো, এটা তো মেঘ। আমাদের ওপর পানি বর্ষণ করবে”-(সূরা আল আহকাফ ৪৬ : ২৪)।অন্য এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বাভাবিক বৃষ্টি দেখলে বলতেন, এটা আল্লাহর রহমত। (বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৪৮২৯, মুসলিম ৮৯৯ (১৫), সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৪৬৩, সহীহ আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১৫৫, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৭৫৩।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫১৩-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঝড়ো হাওয়ার সময় নবীজি صلى الله عليه وسلم যে দোয়া করতেন তা এসেছে। তিনি বাতাসের কল্যাণ, তার ভেতরের কল্যাণ এবং যে কারণে তা পাঠানো হয়েছে সেই কল্যাণ চাইতেন। একই সঙ্গে এর ক্ষতি, এর ভেতরের ক্ষতি এবং যে ক্ষতির জন্য তা পাঠানো হয়ে থাকতে পারে—এসব থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলে তাঁর মুখের রং বদলে যেত, তিনি অস্থিরভাবে এদিক-সেদিক করতেন। বৃষ্টি নামলে তাঁর উৎকণ্ঠা কমে যেত। তিনি আদ জাতির কথা স্মরণ করতেন, যারা মেঘ দেখে বৃষ্টি ভেবেছিল, অথচ তা তাদের জন্য শাস্তি ছিল। এই হাদিস ঝড়ের দোয়া, বাতাসের কল্যাণ ও আল্লাহভীতির সুন্দর শিক্ষা দেয়। তাই ঝড় দেখলে মুমিনের মুখে অভিযোগ নয়; বরং কল্যাণের দোয়া ও নিরাপত্তার আবেদন থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঝড়ো হাওয়ার সময় কল্যাণ চাইতে ও ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাইতে হয়।
- মেঘ দেখলে নবীজি صلى الله عليه وسلم আল্লাহর শাস্তির আশঙ্কাও করতেন।
- বৃষ্টি নামলে তিনি এটিকে রহমত হিসেবে দেখতেন।
