৪/৫২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫১৯-[১২] - রহমতের বাতাস চাওয়া
বৃষ্টির জন্য সালাত - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ঝড় নয়, রহমতের বাতাস চাওয়ার দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫১৯-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫১৯-[১২]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: مَا هَبَّتْ رِيحٌ قَطُّ إِلَّا جَثَا النَّبِيُّ ﷺ على رُكْبَتَيْهِ وَقَالَ: «اللّهُمَّ اجْعَلْهَا رَحْمَةً وَلَا تَجْعَلْهَا عَذَابًا اللّهُمَّ اجْعَلْهَا رِيَاحًا وَلَا تَجْعَلْهَا رِيحًا». قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِي كِتَابِ اللّهِ تَعَالى: ﴿إِنَّا أرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيْحًا صَرْصَرًا﴾ [القمر 54 : 19]، و ﴿أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الرِّيْحَ الْعَقِيْمَ﴾ [الذاريات 51 : 41] ﴿وَأَرْسَلْنَا الرِّيَاحَ لَوَاقِحَ﴾ [الحجر 15 : 22] و ﴿أَنْ يُّرْسِلَ الرِّيَاحَ مُبَشِّرَات﴾ [الروم 30 : 46]. رَوَاهُ الشَّافِعِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «الدَّعْوَاتِ الْكَبِيْرِ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বাতাস প্রবাহিত হওয়া শুরু করলে নবী (ﷺ) হাঁটু ঠেক দিয়ে বসতেন আর বলতেন, “হে আল্লাহ! এ বাতাসকে তুমি রহমাতে রূপান্তরিত করো। আযাবে পরিণত করো না। হে আল্লাহ! একে তুমি বাতাসে পরিণত করো। ঝড়-তুফানে পরিণত করো না।“ইবনু ‘আব্বাস বলেন, আল্লাহর কিতাবে রয়েছেঃ আমি তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি”-(সূরা আল ক্বামার ৫৪ : ১৯)।“আমি তাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম অকল্যাণকর বাতাস”-(সূরা আয্ যা-রিয়া-ত ৫১ : ৪১)।“আমি বৃষ্টি-সঞ্চারী বাতাস প্রেরণ করি’-(সূরা আল হিজর ১৫ : ২২)।“তিনি বায়ু প্রেরণ করেন সুসংবাদ দানের জন্য”-(সূরা আর্ রূম ৩০ : ৪৬)।(শাফি’ঈ, বায়হাক্বীর দা’ওয়াতুল কাবীর) [১]
[১] খুবই দুর্বল : মুসনাদ আশ্ শাফি‘ঈ ৫০২, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ৩৬৯, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৪৬১। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, হাদীসের সানাদে আল ‘আলা বিন রাশিদ একজনে অপরিচিত রাবী এবং তার সাগরেদ ইব্রাহীম বিন আবী ইয়াহ্ইয়া একজন মিথ্যার অপবাদপ্রাপ্ত রাবী।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫১৯-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
ইবনু আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত এই হাদিসে এসেছে, বাতাস প্রবাহিত হলে নবী صلى الله عليه وسلم হাঁটু গেড়ে বসতেন এবং বলতেন, হে আল্লাহ, একে রহমত বানাও, আযাব বানিও না; একে বাতাস বানাও, ঝড়-তুফান বানিও না। এরপর ইবনু আব্বাস রাযি. কুরআনের কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করেন, যেখানে বাতাস কখনো শাস্তির মাধ্যম, আবার কখনো সুসংবাদ ও বৃষ্টি সঞ্চারের মাধ্যম হিসেবে এসেছে। এই হাদিস বাতাসের সামনে নবীজির বিনয় ও ভয় মিশ্রিত দোয়া দেখায়। তিনি বাতাসকে নিয়ন্ত্রণ করার দাবি করেননি; বরং আল্লাহর কাছে তার ভালো রূপ চেয়েছেন। যারা ঝড়ের দোয়া বা বাতাসের আমল খোঁজেন, এই বর্ণনা তাদের জন্য সরাসরি শিক্ষা দেয়। তাই বাতাস দেখলে আতঙ্কে নয়, আল্লাহর কাছে রহমত ও নিরাপত্তা চেয়ে থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাতাস বইলে নবীজি صلى الله عليه وسلم আল্লাহর কাছে রহমত চেয়েছেন।
- তিনি বাতাসকে আযাব না বানানোর দোয়া করেছেন।
- কুরআনে বাতাস কখনো শাস্তি, কখনো সুসংবাদ হিসেবে এসেছে।
