৫/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৩৯-[১৭] - নবীজির রোগযন্ত্রণা
রোগী দেখা ও রোগের সওয়াব - প্রথম অনুচ্ছেদ
অধিকাংশ লেখকবৃন্দ এর মধ্যে মুহাদ্দিসগণ ও ফুকাহারা জানাযাহ্ পর্বকে সালাতের পরে এনেছেন। কেননা মৃত ব্যক্তির সাথে গোসল, কাফন ইত্যাদি ক্রম করা হয় বিশেষ করে তার ওপর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা হয় যেখানে তার জন্য কবরের ‘আযাব হতে মুক্তি পাওয়ার উপকারিতা বিদ্যমান থাকে। কারো মতে মানুষের দু’ অবস্থা একটি জীবিত অপরটি মৃত অবস্থা আর প্রত্যেকটির সাথে সম্পর্ক থাকে ‘ইবাদাত ও মু‘আমিলাতের হুকুম-আহকাম। আর গুরুত্বপূর্ণ ‘ইবাদাত হচ্ছে সালাত। সুতরাং যখন জীবিতকালীন সম্পর্কিত হুকুম-আহকাম হতে মুক্ত হল তখন মৃত্যুকালীন সম্পর্কিত বিষয়াদি আলোচনা করা হল তন্মধ্যে সালাত ও অন্যান্য বিষয়।কারো মতে, জানাযার সালাত শুরু হয়েছে হিজরীর প্রথম বৎসরে, সুতরাং যারা মক্কায় মারা গেছে তাদের ওপর সালাত আদায় হয়নি।
নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর রোগযন্ত্রণার তীব্রতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫৩৯-[১৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫৩৯-[১৭]
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا الْوَجَعُ عَلَيْهِ أَشَدُّ مِنْ رَسُولِ اللّهِ ﷺ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বেশি রোগ যন্ত্রণায় কষ্ট পেতে হয়েছে এমন কাউকে দেখিনি। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৪৬, মুসলিম ২৫৭০, ইবনু মাজাহ্ ১৬২২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৩৯-[১৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর চেয়ে বেশি রোগযন্ত্রণায় কষ্ট পেয়েছে—এমন কাউকে তিনি দেখেননি। বর্ণনাটি খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু অর্থ গভীর। এতে বোঝা যায়, নবী (صلى الله عليه وسلم) মানুষ হিসেবে রোগ ও কষ্ট ভোগ করেছেন। তাঁর মর্যাদা অনেক উঁচু হলেও দুনিয়ার অসুস্থতা ও যন্ত্রণা থেকে তিনি সম্পূর্ণ আলাদা ছিলেন না। এই হাদিস অসুস্থ মানুষকে সান্ত্বনা দেয় যে কষ্ট পাওয়া মানেই আল্লাহর কাছ থেকে দূরে থাকা নয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজেও কঠিন কষ্ট সহ্য করেছেন। তবে এই বর্ণনা থেকে বাড়তি দাবি করা ঠিক নয়; এখানে মূল শিক্ষা হলো নবীজির কষ্ট ও ধৈর্যের বাস্তব চিত্র।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) কঠিন রোগযন্ত্রণা ভোগ করেছেন।
- কষ্ট পাওয়া আল্লাহর অপছন্দের চিহ্ন—এমন ধারণা ঠিক নয়।
- অসুস্থ মানুষের জন্য নবীজির জীবন সান্ত্বনার কারণ হতে পারে।
- হাদিসটি কষ্টের বাস্তবতা ও ধৈর্য স্মরণ করায়।
