৫/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৬৩৬-[৩] - উত্তম কাফন দেওয়ার নির্দেশ
মাইয়্যিতের গোসল ও কাফন - প্রথম অনুচ্ছেদ
‘মৃত্যুর গোসল ও কাফন দান’ তথা তার হুকুম আহকাম ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা। জ্ঞাতব্য যে মৃত ব্যক্তি গোসলের হুকুম সম্পর্কে মতানৈক্য রয়েছে।জমহূরদের মতে মৃত ব্যক্তিকে গোসলদান করা ফারযে কিফায়াহ্ জীবিতদের ওপর। আর এ ব্যাপারে মালিকীদের মাঝে মতভেদ রয়েছে তাদের কেউ বলেছে ওয়াজিব। জমহূরদের মতে আবার কেউ বলেছে সুন্নাতে কিফায়াহ্। এরূপ মতভেদ ইবনু রুশদ বিদায়াতে ও হাফিয ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন।ওয়াজিব এর স্বপক্ষে দলীল নবী (ﷺ) মুহরিম মৃত্যু ব্যক্তির ব্যাপারে বলেছেন(اغسلوه) তাকে গোসল দান করা আর আগত উম্মু ‘আত্বিয়্যার হাদীস (اغسلنها) তোমরা তাকে গোসল করাবে।আমি (ভাষ্যকার) বলি, মৃতদের গোসলের বিষয়টি এই শারী‘আতে অকাট্যভাবে প্রমাণিত আর নবী (ﷺ)-এর যামানায় এমনটি শোনা যায়নি যে, শাহীদ ব্যতিরেকে কেউ মৃত্যুবরণ করেছে আর তার গোসল করা হয়নি। বরং এই শারী‘আতে মৃত্যুদের গোসল আমাদের পিতা আদম (আঃ) হতে প্রমাণিত।মুসতাদরাক হাকিম-এর বর্ণনায় উবাই ইবনে কা‘ব নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যখন আদম (আঃ) মারা গেলেন তখন মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) বেজোড়ভাবে গোসল করালেন পানি দ্বারা এবং তার জন্য লাহদ কবরের ব্যবস্থা করলেন এবং মালায়িকাহ্ বললেন, এটা আদম সন্তানদের সুন্নাহ।আর মতানৈক্য রয়েছে মৃত ব্যক্তির গোসল কি ‘ইবাদাত না শুধুমাত্র ময়লা হতে পরিষ্কার। প্রসিদ্ধ মত জমহূরের নিকট গোসল হল এটা ‘ইবাদাত। এতে শর্তারোপ করা হয় যা শর্ত করা ওয়াজিব ও মানদুব গোসলে।
মৃত ভাইকে উত্তম কাফন দেওয়ার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৬৩৬-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৬৩৬-[৩]
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِذَا كَفَّنَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُحْسِنْ كَفَنَه». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যখন তোমাদের কোন ভাইকে কাফন দিবে তখন উচিত হবে উত্তম কাফন দেয়া। (মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৯৪৩, আবূ দাঊদ ৩১৪৮, আত্ তিরমিযী ৯৯৫, নাসায়ী ১৮৯৫, আহমাদ ১৪১৪৫, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৩৬৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৬৯৪, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৭৮, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৮৪৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৬৩৬-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নিজের ভাইকে কাফন দেবে, তখন সে যেন তার কাফন সুন্দরভাবে দেয়। এখানে ভাই বলতে মুসলিম ভাই বোঝানো হয়েছে। হাদিসটি মৃতের প্রতি সম্মান, যত্ন এবং দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়। কাফন শুধু একটি কাপড় নয়; এটি মৃত মুসলিমকে দাফনের আগে সম্মানের সাথে প্রস্তুত করার অংশ। তাই কাফনে অবহেলা, অগোছালো আচরণ বা অসম্মানজনক ব্যবহার ঠিক নয়। তবে উত্তম কাফন মানে অতি দামি বা অহংকারের কাপড়—এ কথা এই হাদিসে বলা হয়নি। বরং সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সম্মানজনকভাবে কাফন দেওয়ার কথা এসেছে। এই শিক্ষা পরিবার, সমাজ ও জানাযার কাজে যুক্ত মানুষদের জন্য খুব প্রয়োজনীয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মৃত মুসলিমকে সম্মানের সাথে কাফন দেওয়া উচিত।
- কাফনের কাজে অবহেলা করা ঠিক নয়।
- উত্তম কাফন মানে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দরভাবে প্রস্তুত করা।
- মৃতের অধিকার আদায়ে পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব আছে।
