৬/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮৫৬-[২০] - লোভ মুখাপেক্ষিতা, আশা ত্যাগ ধন
যার জন্য কিছু চাওয়া হালাল নয় এবং যার জন্য হালাল - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
লোভ কেন মুখাপেক্ষিতা, আশা ত্যাগ কেন ধন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৮৫৬-[২০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৮৫৬-[২০]
وَعَنْ عُمَرَ قَالَ: تَعْلَمُنَّ أَيُّهَا النَّاسُ أَنَّ الطَّمَعَ فَقْرٌ وَأَنَّ الْإِيَاسَ غِنًى وَأَنَّ الْمَرْءَ إِذَا يَئِسَ عَن شَيْءْ اسْتَغْنى عَنهُ. رَوَاهُ رَزِيْنٌ
উমার ফারূক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি লোকদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে লোকেরা! মনে রাখবে লোভ লালসা এক রকমের মুখাপেক্ষিতা। আর মানুষ থেকে অমুখাপেক্ষী থাকা, ধনী হবার লক্ষণ। মানুষ যখন অন্যের কাছে কিছু আশা করা ত্যাগ করে, তখন সে স্বনির্ভর হয়।
(রযীন)
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮৫৬-[২০]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় উমার রাঃ লোকদের উদ্দেশে বলেন, লোভ এক ধরনের মুখাপেক্ষিতা, আর মানুষ থেকে অমুখাপেক্ষী থাকা ধনী হওয়ার লক্ষণ। যখন মানুষ অন্যের কাছে কিছু আশা করা ত্যাগ করে, তখন সে সেই জিনিস থেকে স্বনির্ভর হয়। এখানে সম্পদের পরিমাণ নয়, অন্তরের অবস্থা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। যার মনে সব সময় অন্যের মাল পাওয়ার আশা থাকে, সে বাহ্যিকভাবে কিছু পেলেও ভিতরে দরিদ্রতার মতো অবস্থায় থাকে। আর যে অন্যের কাছে আশা ছেড়ে দেয়, তার অন্তরে স্বাধীনতা আসে। এই বর্ণনা ভিক্ষা, লোভ, অমুখাপেক্ষিতা এবং আত্মসম্মান—সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত। মানুষের সম্পদ দেখে মন না লাগানো এবং নিজের প্রয়োজনকে সংযত রাখা—এটাই এখানে প্রধান শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লোভ মানুষকে অন্তরে মুখাপেক্ষী করে তোলে।
- অন্যের কাছে আশা ত্যাগ করলে স্বনির্ভরতা আসে।
- ধনী হওয়া শুধু সম্পদের পরিমাণ দিয়ে বোঝা যায় না।
- নিজের মনকে লোভ থেকে সংযত রাখা দরকার।
