৬/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮৫৭-[২১] - ভিক্ষা না করার ওয়াদা
যার জন্য কিছু চাওয়া হালাল নয় এবং যার জন্য হালাল - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ভিক্ষা না করার ওয়াদার বড় মর্যাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৮৫৭-[২১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৮৫৭-[২১]
وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ يَكْفُلُ لِي أَنْ لَا يَسْأَلَ النَّاسَ شَيْئًا فَأَتَكَفَّلَ لَه بِالْجَنَّةِ؟» فَقَالَ ثَوْبَانُ: أَنَا فَكَانَ لَا يَسْأَلُ أَحَدًا شَيْئًا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ
সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার বলেছেন, যে আমার সাথে এ ওয়াদা করবে যে, সে কারো কাছে ভিক্ষার হাত বাড়াবে না। আমি তার জন্য জান্নাতের ওয়াদা করতে পারি। সাওবান (রাঃ) বলেন, আমি। ফলে তিনি কারো কাছে কোন কিছু চাইতেন না (বস্ততঃ সাওবান (রাঃ) যত অভাবেই থাকুন, কারো কাছে আর কোনদিন হাত পাতেননি) [১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৬৪৩, নাসায়ী ২৫৯০, সহীহ আত্ তারগীব ৮১৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮৫৭-[২১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের সামনে বলেন, কে আমার সঙ্গে এ ওয়াদা করবে যে সে মানুষের কাছে কিছু চাইবে না, আমি তার জন্য জান্নাতের ওয়াদা করতে পারি। সাওবান রাঃ সঙ্গে সঙ্গে বলেন, আমি। এরপর তাঁর জীবনে এই শিক্ষার বাস্তব প্রভাব দেখা যায়—তিনি কারো কাছে কোনো কিছু চাইতেন না। হাদিসটি ভিক্ষা না করার অঙ্গীকার, আত্মসম্মান এবং অমুখাপেক্ষী থাকার বড় মর্যাদা দেখায়। এখানে চাওয়ার বিষয়টি খুব বিস্তৃতভাবে এসেছে—মানুষের কাছে কিছু না চাওয়া। তবে এই শিক্ষা শক্ত মন, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়া সম্ভব নয়। সাওবান রাঃ-এর আচরণ দেখায়, নবীর শিক্ষা শুধু শোনা নয়, জীবনে ধরে রাখাই আসল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের কাছে কিছু না চাওয়ার অঙ্গীকারের বড় মর্যাদা আছে।
- সাওবান রাঃ নবীর কথাকে নিজের জীবনে বাস্তবভাবে গ্রহণ করেছিলেন।
- অমুখাপেক্ষী থাকা জান্নাতের আশার কারণ হতে পারে।
- নবীর শিক্ষা মানতে হলে দৃঢ় সিদ্ধান্ত দরকার।
