৬/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮৭৭-[১৯] - বাগানের ফসল ভাগের শিক্ষা
দানের মর্যাদা ও কৃপণতার পরিণাম - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ফসলের ভাগ: দান, পরিবার ও কাজে ফেরানো
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৮৭৭-[১৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৮৭৭-[১৯]
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «بَيْنَا رَجُلٌ بِفَلَاةٍ مِنَ الْأَرْضِ فَسَمِعَ صَوْتًا فِىْ سَحَابَةٍ اسْقِ حَدِيقَةَ فُلَانٍ فَتَنَحّى ذلِكَ السَّحَابُ فَأَفْرَغَ مَاءَه فِىْ حَرَّةٍ فَإِذَا شَرْجَةٌ مِنْ تِلْكَ الشِّرَاجِ قَدِ اسْتَوْعَبَتْ ذلِكَ الْمَاءَ كُلَّه فَتَتَبَّعَ الْمَاءَ فَإِذَا رَجُلٌ قَائِمٌ فِىْ حَدِيقَتِه يُحَوِّلُ الْمَاءَ بِمِسْحَاتِه فَقَالَ لَه يَا عَبْدَ اللّهِ مَا اسْمُكَ قَالَ فُلَانٌ، لِلْإسْمِ الَّذِىْ سَمِعَ فِى السَّحَابَةِ فَقَالَ لَه يَا عَبْدَ اللّهِ لِمَ تَسْأَلُنِىْ عَنِ اسْمِىْ فَقَالَ إِنِّىْ سَمِعْتُ صَوْتًا فِي السَّحَابِ الَّذِىْ هذَا مَاؤُه يَقُوْلُ اسْقِ حَدِيقَةَ فُلَانٍ لِاسْمِكَ فَمَا تَصْنَعُ فِيْهَا قَالَ أَمَا إِذْ قُلْتَ هذَا فَإِنِّي أَنْظُرُ إِلى مَا يَخْرُجُ مِنْهَا فَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثِه وَاكُلُ أَنَا وَعِيَالِىْ ثُلُثًا وَأَرُدُّ فِيْهَا ثُلُثَه».رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ এক ব্যক্তি এক বিরাণ মাঠে দাঁড়িয়ে ছিল। এমন সময় মেঘমালার মধ্যে সে একটি আওয়াজ শুনতে পেলো। কেউ মেঘমালাকে বলছে, ‘অমুক ব্যক্তির বাগানে পানি বর্ষণ করো।’ মেঘমালাটি সেদিকে সরে গিয়ে কংকরময় ভূমিতে পানি বর্ষণ করতে লাগলো। তখন দেখা গেল, ওখানকার নালাগুলোর একটি সব পানি নিজের মধ্যে পুরে নিচ্ছে।তারপর ও ব্যক্তি ওই পানির পিছনে চলতে লাগলো (যেন দেখতে পায় এসব পানি যার বাগানে গিয়ে পৌঁছে সেই ব্যক্তি কে?)। হঠাৎ করে সে এক লোককে দেখতে পেলো, যে নিজের ক্ষেতে দাঁড়িয়ে ব্যক্তি সেচনী দিয়ে (বাগানে) পানি দিচ্ছে। সে লোকটিকে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর বান্দা! তোমার নাম কি? সে ব্যক্তি বলল, আমার নাম অমুক। এ ব্যক্তি ওই নামই বলল যে নাম সে মেঘমালা থেকে শুনেছিলো।তারপর বাগানের লোকটি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি আমাকে নাম জিজ্ঞেস করছ কেন? এ জন্য জিজ্ঞেস করছি যে, এ পানি যে মেঘমালার সে মেঘমালা থেকে আমি একটি আওয়াজ শুনেছি। কেউ বলছিল, অমুকের বাগানে পানি বর্ষণ করো। আর সেটি তোমার নাম। (এখন বল), তুমি এ বাগানে দিয়ে কি করেছ (যার দরুন তুমি এতো বড় মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছ)। বাগানওয়ালা লোকটি বলল, “ যেহেতু তুমি জিজ্ঞেস করেছ, তাই আমি বলছি, এ বাগানে যা উৎপাদিত হয় আমি তার প্রতি লক্ষ্য রাখি। তারপর তা হতে এক-তৃতীয়াংশ আল্লাহর পথে খরচ করি, এক তৃতীয়াংশ আমি ও আমার পরিবার খাই, অবশিষ্ট এক তৃতীয়াংশ এ বাগানে লাগাই।”(মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ২৯৮৪, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ২৮৬৪।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮৭৭-[১৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক বাগানওয়ালা ব্যক্তির সুন্দর আমল বর্ণিত হয়েছে। এক ব্যক্তি মেঘের মধ্যে আওয়াজ শুনলেন, অমুকের বাগানে পানি দাও। পরে তিনি পানি অনুসরণ করে সেই বাগানের মালিককে পেলেন। জিজ্ঞেস করলে বাগানওয়ালা বললেন, বাগানে যা উৎপাদিত হয়, তিনি তা ভাগ করেন। এক-তৃতীয়াংশ আল্লাহর পথে দান করেন, এক-তৃতীয়াংশ তিনি ও তার পরিবার খান, আর এক-তৃতীয়াংশ আবার বাগানে লাগান। এই হাদিসে দান, পরিবার এবং উৎপাদন বজায় রাখার ভারসাম্য দেখা যায়। এখানে সুশৃঙ্খল সম্পদ ব্যবহার শেখানো হয়েছে। সব আয় একদিকে না দিয়ে, আল্লাহর পথে ব্যয়, পরিবারের প্রয়োজন এবং কাজের ধারাবাহিকতা—সবই বিবেচনায় রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আয়ের একটি অংশ আল্লাহর পথে ব্যয় করা প্রশংসনীয়।
- পরিবারের প্রয়োজন মেটানোও দায়িত্বের অংশ।
- উৎপাদন বা কাজ চালু রাখতে সম্পদের অংশ ফেরত লাগানো বুদ্ধিমানের কাজ।
- সম্পদ ব্যবহারে নিয়ম ও ভারসাম্য রাখা দরকার।
