৭/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৯৮১-[১৩] - রমাযানের চাঁদ দেখা ও মাস গণনা
নতুন চাঁদ দেখার বর্ণনা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
রমাযানের চাঁদ দেখা: মাস শুরু করার সঠিক শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৯৮১-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৯৮১-[১৩]
وَعَنْ أَبِىْ الْبَخْتَرِىِّ قَالَ: خَرَجْنَا لِلْعُمْرَةِ فَلَمَّا نَزَلْنَا بِبَطْنِ نَخْلَةَ تَرَاءَيْنَا الْهِلَالَ. فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ: هُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ. وَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ: هُوَ ابْنُ لَيْلَتَيْنِ فَلَقِينَا ابْنَ عَبَّاسٍ فَقُلْنَا: إِنَّا رَأَيْنَا الْهِلَالَ فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ: هُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ: هُوَ ابْنُ لَيْلَتَيْنِ. فَقَالَ: أَىُّ لَيْلَةٍ رَأَيْتُمُوهُ؟ قُلْنَا: لَيْلَةَ كَذَا وَكَذَا. فَقَالَ: إِنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ مَدَّه لِلرُّؤْيَةِ فَهُوَ لِلَيْلَةِ رَأَيْتُمُوهُ.وَفِىْ رِوَايَةٍ عَنْهُ. قَالَ: أَهَلَلْنَا رَمَضَانَ وَنَحْنُ بِذَاتِ عِرْقٍ فَأَرْسَلْنَا رَجُلًا إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُه فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: إِنَّ اللهَ تَعَالٰى قَدْ أَمَدَّه لِرُؤْيَتِه فَإِنْ أُغْمِىَ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا الْعِدَّةَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবুল বাখতারী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা ‘উমরাহ্ করার জন্য বের হলাম। অতঃপর যখন আমরা ‘বাত্বনি নাখলাহ্’ নামক (মক্কা আর ত্বয়িফের মধ্যবর্তী একটি স্থানের নাম) স্থানে পৌঁছে আমরা (নতুন) চাঁদ দেখলাম। কিছু লোক বলল, এ চাঁদ তৃতীয় রাতের (তৃতীয়ার), কিছু লোক বলল, এ চাঁদ দুই রাতের (দ্বিতীয়ার) চাঁদ।এরপর আমরা ইবনু ‘আব্বাস-এর সাক্ষাত পেলাম। তাঁকে বললাম, আমরা নতুন চাঁদ দেখেছি। আমাদের কেউ কেউ বলেন, এ চাঁদ তৃতীয়ার চাঁদ। আবার কেউ বলেন, দ্বিতীয়ার চাঁদ। ইবনু ‘আব্বাস জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কোন্ রাতে চাঁদ দেখেছ? আমরা বললাম, ঐ ঐ রাতে। তখন ইবনু ‘আব্বাস বললেন, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমাযানের সময়কে চাঁদ দেখার উপর নির্দিষ্ট করেছেন। অতএব এ চাঁদ সে রাতের যে রাতে তোমরা দেখেছ।এ বর্ণনাকারী হতেই অন্য একটি বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমরা ‘যা-তি ‘ইরক্ব’ নামক স্থানে (বাত্বনি নাখলাহ্’র কাছাকাছি একটি স্থান) রমাযানের চাঁদ দেখলাম। অতএব আমরা ইবনু ‘আব্বাসকে জিজ্ঞেস করার জন্য লোক পাঠালাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা শা‘বানমাসকে রমাযানের চাঁদ দেখা পর্যন্ত দীর্ঘ করেছেন। যদি তোমাদের ওপর আকাশ মেঘলা থাকে, তাহলে গণনা পূর্ণ করো (অর্থাৎ- শা‘বান মাসের সময় ত্রিশদিন পূর্ণ করো)। (মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ১০৮৮, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৯০২৭। তবে ইরওয়া ৯০৩, সহীহ আল জামি‘ ১৭৯০-তে শেষের অংশটুকু রয়েছে।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৯৮১-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমাযানের চাঁদ দেখা এবং মাস গণনার একটি পরিষ্কার নিয়ম এসেছে। কিছু মানুষ চাঁদ দেখে ধারণা করছিলেন, এটি দ্বিতীয় রাতের চাঁদ নাকি তৃতীয় রাতের চাঁদ। ইবনু আব্বাস রা. তাদের প্রশ্নের উত্তরে মূল বিষয়টি সহজ করে দেন। তিনি জানতে চান, তোমরা কোন রাতে চাঁদ দেখেছ? এরপর বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের সময়কে চাঁদ দেখার উপর নির্দিষ্ট করেছেন। তাই চাঁদের আকার দেখে আগের দিন অনুমান না করে যে রাতে চাঁদ দেখা যায়, সে রাতকেই ধরা হবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আকাশ মেঘলা থাকলে শা‘বান মাসের গণনা পূর্ণ করতে হবে। তাই রমাযানের চাঁদ দেখা, হিলাল দেখা এবং মেঘলা আকাশে মাস গণনা—এই তিনটি বিষয় এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চাঁদের আকার দেখে মাসের দিন অনুমান করা ঠিক নয়; দেখা রাতই ধরা হবে।
- রমাযান শুরু করার ভিত্তি হলো চাঁদ দেখা।
- আকাশ মেঘলা হলে শা‘বান মাসের গণনা পূর্ণ করতে হবে।
- ধর্মীয় বিষয়ে অনুমানের বদলে স্পষ্ট নির্দেশনা মানা জরুরি।
