৭/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৯৯৯-[১] - মিথ্যা থেকে রোজাকে রক্ষা
সওম পবিত্র করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
রোজা ও সত্যবাদিতা: মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৯৯৯-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৯৯৯-[১]
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِه فَلَيْسَ لِلّٰهِ حَاجَةٌ فِى اَنْ يَدَعَ طَعَامَه وَشَرَابَه». رَوَاهُ البُخَارِىُّ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (সিয়ামরত অবস্থায়) মিথ্যা কথা বলা ও এর উপর ‘আমাল করা ছেড়ে না দেয়, তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। (বুখারী)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৯০৩, আবূ দাঊদ ২৩৬২, তিরমিযী ৭০৭, ইবনু মাজাহ ১৬৮৯, আহমাদ ১০৫৬২, ইবনু খুযায়মাহ্ ১৯৯৫, ইবনু হিব্বান ৩৪৮০, সহীহ আত্ তারগীব ১০৭৯, সহীহ আল জামি‘ ৬৫৩৯।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৯৯৯-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রোজার ভেতরের শিক্ষা খুব শক্তভাবে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা এবং মিথ্যার উপর আমল করা ছাড়ে না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ রোজা শুধু না খাওয়া ও না পান করার নাম নয়; রোজার সঙ্গে সত্যবাদিতা, চরিত্র এবং কাজের সম্পর্ক আছে। এখানে মিথ্যা কথা এবং মিথ্যার কাজ—দুটিই উল্লেখ করা হয়েছে। তাই রোজাদারের উচিত জবান ও কাজ দুটোই সাবধানে রাখা। রোজা ও মিথ্যা, রোজার আদব এবং সত্যবাদিতা—এই বিষয়গুলো এই হাদিসের মূল কীওয়ার্ড। হাদিসটি কঠোর সতর্কতা দেয়, যাতে রোজাদার বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি নিজের আচরণও ঠিক রাখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোজার সময় মিথ্যা কথা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।
- মিথ্যার উপর কাজ করাও সতর্কতার বিষয়।
- রোজা শুধু পানাহার ত্যাগ নয়; চরিত্রের সংশোধনও দরকার।
- রোজাদারের জবান ও কাজ দুই দিকেই সতর্ক থাকা উচিত।
