৭/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২০০০-[২] - সাওমে আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষা
সওম পবিত্র করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
সাওমে আত্মনিয়ন্ত্রণ: নবীজির আমল বুঝে চলা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২০০০-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২০০০-[২]
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ يُقَبِّلُ وَيُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ وَكَانَ أَمْلَكَكُمْ لِأَرْبِه. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাওমরত অবস্থায় (নিজের স্ত্রীদেরকে) চুমু খেতেন এবং (তাঁদেরকে) নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে ধরতেন। কেননা তিনি (ﷺ) প্রয়োজনে নিজেকে তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ ছিলেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৯২৭, মুসলিম ১১০৬, তিরমিযী ৭২৯, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক্ব ৭৪৪১, আহমাদ ২৪১৩০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮০৭৬।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২০০০-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশাহ রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি ব্যক্তিগত আমলের কথা বলেছেন। তিনি সাওমরত অবস্থায় নিজের স্ত্রীদের চুমু দিতেন এবং শরীরের সাথে মিশিয়ে ধরতেন। এরপর গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা এসেছে—তিনি প্রয়োজনে নিজেকে তোমাদের চেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম ছিলেন। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা শুধু বাহ্যিক আমল নয়; বরং আত্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। রোজাদার নিজের অবস্থাও বুঝবে, যাতে রোজার সীমা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা না থাকে। এখানে সাওমে চুমু, রোজায় স্ত্রীকে স্পর্শ এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ—এসব বিষয় এসেছে। হাদিসকে বুঝতে শেষ বাক্যটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নবীজির নিয়ন্ত্রণ সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি ছিল বলে স্পষ্ট বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাওমের সময় আত্মনিয়ন্ত্রণ খুব গুরুত্বপূর্ণ।
- নবীজির আমল বুঝতে তাঁর বিশেষ সংযমের কথাও মনে রাখতে হবে।
- রোজাদারের নিজের অবস্থার দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত।
- হাদিসের একটি অংশ নয়, পুরো বক্তব্য দেখে শিক্ষা নিতে হবে।
