২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২০২-[৫] - সম্পদ ও হিকমাহর সঠিক ব্যবহার
ইলম (বিদ্যা) - প্রথম অনুচ্ছেদ
‘ইলমের মর্যাদা এবং ‘ইলম অর্জন করা ও শিক্ষা দেয়ার মর্যাদা বিষয়ে যা কিছু ‘ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট তার বিবরণ, ভাষাগতভাবে ‘ইলম কি? এবং ‘ইলমের ফরয ও নফলের বিবরণ। এছাড়া ‘ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়, এখানে ‘ইলমের সারবস্ত্ত ও বাস্তবতার বিবরণ আনা হয়নি, কেননা সারবস্ত্ত কিতাবের বিষয় নয়। কিতাবুল ‘ইলম সকল কিতাবের কেন্দ্রবিন্দু। তাই এটিকেই অন্য সব কিতাবের পূর্বভাগে স্থান দেয়া হয়েছে।আবার এটিকে কিতাবুল ঈমান ও এতদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যেমন- তাক্বদীর, কবরের শাস্তি, কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতে রাসূল (ﷺ)-কে আঁকড়ে ধরা কিংবা কুফর এবং ঈমানে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অন্যান্য বিষয়ের পূর্বে স্থান দেয়া হয়নি। কারণ শারী‘আতের দায়িত্ব পালনের যোগ্য ব্যক্তির জন্য সর্বপ্রথম ওয়াজিব এবং সর্বাধিক সম্মানিত বিষয় হচ্ছে ঈমান। এক্ষেত্রে ‘ইলম অন্বেষণকারীর জন্য উচিত হবে ইবনু জামা‘আরتذكرة السامع والمتعلمমৃঃ ৭৩৩ হিজরী, ইবনু ‘আবদুল বার-এরجامع بيان العلمমৃঃ ৪৬২ হিজরী এবং এ বিষয়ের আরো অন্যান্য কিতাব অধ্যয়ন করা।
হিকমাহ ও সম্পদ সঠিক পথে ব্যয়ের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২০২-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২০২-[৫]
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ الله ﷺ لَا حَسَدَ اِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ اۤتَاهُ اللّهُ مَالًا فَسَلَّطَهٗ عَلى هَلَكَتِه فِي الْحَقِّ وَرَجُلٌ اۤتَاهُ اللّهُ الْحِكْمَةَ فَهُوَ يَقْضِيْ بِهَا وَيُعَلِّمُهَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো ব্যাপারে হিংসা করা ঠিক নয়। প্রথম ব্যক্তি- যাকে আল্লাহ তা'আলা সম্পদ দান করেছেন সাথে সাথে তা সত্যের পথে (ফী সাবীলিল্লাহ) বা সৎকার্যে ব্যয় করার জন্য তাকে তাওফীক্বও দিয়েছেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি- যাকে আল্লাহ তা'আলা হিক'মাহ্, অর্থাৎ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং সে এ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা যথোপযুক্তভাবে কাজে লাগায় এবং (লোকদেরকে) তা শিখায়। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৭৩, মুসলিম ৮১৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২০২-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, দুই ধরনের মানুষের ব্যাপারে ঈর্ষা বা ভালো কাজে আগ্রহ করা যায়। প্রথমজন হলো, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং সে সেই সম্পদ সত্যের পথে ব্যয় করার তাওফীক পেয়েছে। দ্বিতীয়জন হলো, যাকে আল্লাহ হিকমাহ বা জ্ঞান-প্রজ্ঞা দিয়েছেন, সে তা দিয়ে বিচার-বিবেচনা করে এবং মানুষকে শেখায়। এখানে হিংসা বলতে ক্ষতিকর হিংসা বোঝানো নয়; বরং এমন নেক আগ্রহ বোঝানো হয়েছে, যাতে মানুষ ভালো কাজের মতো হতে চায়। এই হাদিস সম্পদ, ইলম, হিকমাহ, দান এবং শিক্ষাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে। আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত নিজের খ্যাতির জন্য নয়, সত্য ও কল্যাণের পথে কাজে লাগানোই মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ পেলে তা সত্য ও সৎ কাজে ব্যয় করা উচিত।
- হিকমাহ বা জ্ঞান শুধু নিজের জন্য নয়, মানুষকে শেখানোর জন্যও।
- ভালো মানুষের ভালো কাজ দেখে নেক আগ্রহ রাখা যায়।
- আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়।
