১০/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ০ - আবূ মূসার দোয়া ও ইসমে আযম
আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
আবূ মূসা রা.-এর দোয়ায় ইসমে আযমের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ০
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ০
عَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: دَخَلْتُ مَعَ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ الْمَسْجِدَ عِشَاءً فَإِذَا رَجُلٌ يَقْرَأُ وَيَرْفَعُ صَوْتَه فَقُلْتُ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ أَتَقُولُ: هٰذَا مُرَاءٍ؟ قَالَ: «بَلْ مُؤْمِنٌ مُنِيبٌ» قَالَ: وَأَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِىُّ يَقْرَأُ وَيَرْفَعُ صَوْتَه فَجَعَلَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ يَتَسَمَّعُ لِقِرَاءَتِه ثُمَّ جَلَسَ أَبُو مُوسٰى يَدْعُو فَقَالَ: اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ أُشْهِدُكَ أَنَّكَ أَنْتَ اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَحَدًا صَمَدًا لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَّه كُفُوًا أَحَدٌ فَقَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «لَقَدْ سَأَلَ اللّٰهَ بِاسْمِهِ الَّذِىْ إِذَا سُئِلَ بِه أَعْطٰى وَإِذَا دُعِىَ بِه أَجَابَ» قُلْتُ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ أُخْبِرُه بِمَا سَمِعْتُ مِنْكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ» فَأَخْبَرْتُه بِقَوْلِ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ فَقَالَ لِىْ: أَنْتَ الْيَوْمَ لِىْ أَخٌ صَدِيقٌ حَدَّثْتَنِىْ بِحَدِيثِ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ. رَوَاهُ رَزِيْنٌ
বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ‘ইশার সালাতের সময় মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন দেখি জনৈক ব্যক্তি (সালাতে) কোরআন পড়ছেন এবং তার নিজের গলার স্বর উচ্চ করছেন। আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এভাবে (সালাতে) কোরআন পড়াকে কি আপনি রিয়া বা প্রদর্শনী বলবেন? উত্তরে তিনি (ﷺ) বললেন, না। বরং এ ব্যক্তি একজন বিনয়ী মু’মিন। বুরায়দাহ্ (রাঃ) বলেন, আবূ মূসা আল আশ্‘আরীই কোরআন পড়ছিলেন এবং তা উচ্চৈঃস্বরে পড়ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কিরাআত শুনছিলেন।তারপর আবূ মূসা বসে এ দোয়া করতে লাগলেন, ‘‘হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি আল্লাহ, তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তুমি এক ও তুমি সকলের নির্ভরস্থল, অমুখাপেক্ষী। যিনি কাউকে জন্মও দেননি, কারো থেকে জন্মও নন এবং যার কোন সমকক্ষও নেই।’’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, নিশ্চয়ই সে আল্লাহর ঐ নামের সাথে তাঁর কাছে প্রার্থনা করল, যে নাম ধরে যখন যা প্রার্থনা করা হয়, তখন তিনি তা দান করেন এবং ঐ নামের সাথে যখন তাঁকে ডাকে, তখন তিনি সে ডাকে সাড়া দেন।বুরায়দাহ্ (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাকে এটা বলব, যা আপনার কাছে শুনলাম? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ (বলো)। অতঃপর আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন তা বলে শুনালাম। তখন আবূ মূসা (রাঃ) আমাকে বললেন, আজ থেকে আপনি আমার প্রিয় ভাই। কারণ আপনি আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সব কথা শুনালেন। (রযীন)[১]
[১] সহীহ : আহমাদ ২২৯৫২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় কিরাআত, বিনয় এবং ইসমে আযম—তিনটি বিষয় এসেছে। বুরায়দাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মসজিদে ঢুকে দেখলেন, একজন ব্যক্তি কুরআন পড়ছেন এবং স্বর কিছুটা উঁচু করছেন। তিনি রিয়া কি না জানতে চাইলে নবীজি বললেন, না; বরং তিনি বিনয়ী মুমিন। পরে জানা যায়, তিনি আবূ মূসা আল-আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি দোয়ায় আল্লাহর একত্ব, অমুখাপেক্ষিতা, জন্ম না দেওয়া, জন্ম না নেওয়া এবং সমকক্ষ না থাকার কথা বললেন। নবীজি জানালেন, তিনি আল্লাহর এমন নামে দোয়া করেছেন, যে নামে প্রার্থনা করলে দান করা হয় এবং ডাকলে সাড়া দেওয়া হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বর উঁচু করে কিরাআত করলেই তা রিয়া নয়—নবীজি এখানে বিনয় দেখেছেন।
- দোয়ায় আল্লাহর একত্ব ও অমুখাপেক্ষিতা উল্লেখ করা বড় আদব।
- ভালো কথা শুনে অন্যকে জানানো উপকারী হতে পারে।
- ইসমে আযম দিয়ে দোয়ার মর্যাদা এই বর্ণনায় এসেছে।
