১০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৪১-[১৯] - পাপের পর তাওবাহর গুরুত্ব
ক্ষমা ও তাওবা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
গুনাহের পর তাওবাহ: উত্তম পাপীর পরিচয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩৪১-[১৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩৪১-[১৯]
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «كُلُّ بَنِىْ اٰدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ والدَّارِمِىُّ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপী। আর উত্তম পাপী হলো সে ব্যক্তি যে (গুনাহ করে) তওবা করে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]
[১] হাসান : তিরমিযী ২৪৯৯, ইবনু মাজাহ ৪২৫১, দারিমী ২৭৬৯, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৭৬১৭, সহীহ আল জামি‘ ৪৫১৫, শু‘আবূল ঈমান ৬৭২৫। তবে হাকিম এবং শু‘আবূল ঈমান-এর সানাদটি দুর্বল।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৪১-[১৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের স্বভাব ও আল্লাহর দিকে ফেরার পথকে খুব সহজভাবে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপী। অর্থাৎ মানুষ ভুল করবে, গুনাহ হতে পারে, দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। কিন্তু হাদিসের মূল শিক্ষা হলো গুনাহকে হালকা ভাবা নয়; বরং গুনাহের পর তাওবাহ করা। উত্তম পাপী সে, যে নিজের ভুল বুঝে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে। তাই তাওবাহ, ইস্তিগফার এবং গুনাহ মাফের আশা একজন মুমিনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বর্ণনা মানুষকে হতাশ না করে দায়িত্বশীল করে তোলে। ভুল হয়ে গেলে সেটাকে লুকিয়ে রাখার বা চালিয়ে যাওয়ার বদলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষ ভুল করতে পারে, তাই ভুলের পর আল্লাহর দিকে ফিরে আসা জরুরি।
- গুনাহকে স্বাভাবিক মনে করে চালিয়ে যাওয়া নয়, তাওবাহ করাই উত্তম পথ।
- তাওবাহ মানুষকে নিজের ভুল বুঝতে ও সংশোধন হতে সাহায্য করে।
- আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দরজা খোলা আছে—এ শিক্ষা হাদিসে স্পষ্ট।
