১০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৫৮-[৩৬] - বান্দার তাওবায় আল্লাহর আনন্দ
ক্ষমা ও তাওবা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মুমিনের গুনাহভীতি ও তাওবায় আল্লাহর আনন্দ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩৫৮-[৩৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩৫৮-[৩৬]
وَعَنِ الْحَارِثِ بْنُ سُوَيْدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللّٰهِ بْنُ مَسْعُودٍ حَدِيْثَيْنِ: أَحَدُهُما عَنْ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ وَالْاٰخِرُ عَنْ نَفْسِه قَالَ: إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرٰى ذُنُوبَه كَأَنَّه قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرٰى ذُنُوبَه كَذُبَابٍ مَرَّ عَلَى انْفِه فَقَالَ بِه هَكَذَا أَىْ بِيَدِه فَذَبَّه عَنْهُ ثُمَّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُوْلُ: «اَللهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ مِنْ رَجُلٍ نَزَلَ فِى ارْضٍ دَوِيَّةٍ مَهْلَكَةٍ مَعَه رَاحِلَتُه عَلَيْهَا طَعَامُه وَشَرَابُه فَوَضَعَ رَأْسَه فَنَامَ نَوْمَةً فَاسْتَيْقَظَ وَقَدْ ذَهَبَتْ رَاحِلَتُه فَطَلَبَهَا حَتَّى اِذَا اشْتَدَّ عَلَيْهِ الْحَرُّ وَالْعَطَشُ أَوْ مَا شَآءَ اللّٰهُ قَالَ: أَرْجِعُ إِلٰى مَكَانِى الَّذِىْ كُنْتُ فِيهِ فَأَنَامُ حَتّٰى اَمُوْتَ فَوَضَعَ رَأْسَه عَلٰى سَاعِدِه لِيَمُوتَ فَاسْتَيْقَظَ فَإِذَا رَاحِلَتُه عِنْدَه عَلَيْهَا زَادُه وَشَرَابُه فَاللّٰهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ الْعَبْدِ الْمُؤْمِنِ مِنْ هٰذَا بِرَاحِلَتِه وَزَادِه».رَوٰى مُسْلِمٌ الْمَرْفُوْعَ إِلٰى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ مِنْهُ فَحَسْبُ وَرَوَى البُخَارِىُّ الْمَوْقُوْفَ عَلَى ابْنِ مَسْعُوْدٍ أَيْضًا
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) আমাকে দুইটো কথা বলেছেন- একটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে, আর অপরটি তাঁর নিজের পক্ষ থেকে। তিনি বলেছেন, মু’মিন নিজের গুনাহকে মনে করে সে যেন কোন পাহাড়ের নীচে বসে আছে, যা তার উপর ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা করে। অপরদিকে গুনাহগার ব্যক্তি নিজের গুনাহকে দেখে একটি মাছির মতো, যা তার নাকের উপর বসল, আর তা সে হাত দিয়ে নাড়িয়ে তাড়িয়ে দিলো।এরপর ইবনু মাস'ঊদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাঁর মু’মিন বান্দার তাওবায় সে লোকের চেয়ে বেশি আনন্দিত হন, যে লোক কোন ধ্বংসকারী মরুভূমিতে পৌঁছেছে, আর তার সাথে তার বাহন রয়েছে, যার উপর তার খাদ্য ও পানীয় রয়েছে। সেখানে সে জমিনে মাথা রাখল ও কিছুক্ষণ ঘুমাল।অতঃপর জেগে দেখল তার বাহন পালিয়ে গেছে। সে তা খুঁজতে শুরু করল। অবশেষে গরম ও তৃষ্ণা এবং অপরাপর দুঃখ-বেদনা যা আল্লাহর মর্জি তাকে দুর্বল করে ফেলল। তখন সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল, আমি যেখানে ছিলাম সেখানে গিয়ে (আমৃত্যু) শুয়ে থাকব। সুতরাং সে সেখানে গিয়ে নিজের বাহুর উপর মাথা রেখে শুয়ে পড়ল, যাতে সে মৃত্যুবরণ করে। হঠাৎ এক সময় জেগে দেখে তার বাহন তার কাছে, বাহনের উপর তার খাদ্য-সামগ্রীও আছে। তখন সে তার বাহন ও খাদ্য-সামগ্রী ফেরত পাওয়ার আকস্মিকতায় যেরূপ খুশী হয়, আল্লাহ তাঁর মু’মিন বান্দার তাওবায় এর চেয়েও বেশি খুশী হয়।(ইমাম মুসলিম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছ থেকে শুধু মারফূ‘ অংশ এবং ইমাম বুখারী ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে মাওকূফ ও মারফূ‘ উভয় অংশ বর্ণনা করেছেন)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ৬৩০৮, মুসলিম ২৭৪৪, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৫৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৫৮-[৩৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে প্রথমে মুমিন ও গুনাহগারের গুনাহ দেখার পার্থক্য বলা হয়েছে। মুমিন নিজের গুনাহকে এমন মনে করে, যেন সে পাহাড়ের নিচে বসে আছে এবং পাহাড় তার ওপর পড়ে যেতে পারে। আর গুনাহগার নিজের গুনাহকে মাছির মতো দেখে, যা নাকে বসে আবার হাতের ইশারায় উড়ে যায়। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক লোকের উদাহরণ দেন, যে মরুভূমিতে বাহন হারিয়ে মৃত্যুর আশঙ্কায় পড়ে, পরে হঠাৎ বাহন ও খাদ্য ফিরে পেয়ে খুব খুশি হয়। আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দার তাওবায় এর চেয়েও বেশি আনন্দিত হন। এই হাদিস তাওবাহ, গুনাহের ভয় এবং আল্লাহর রহমতের আশা একসঙ্গে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিন নিজের গুনাহকে হালকা ভাবে না।
- গুনাহকে মাছির মতো তুচ্ছ ভাবা বিপজ্জনক মানসিকতা।
- আল্লাহ মুমিন বান্দার তাওবায় আনন্দিত হন।
- তাওবাহ মানুষকে হতাশা থেকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনে।
