১০/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৬৭-[৩] - ভয় ও আশার ভারসাম্য
আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা - প্রথম অনুচ্ছেদ
অত্র অধ্যায়ের অধিকাংশ হাদীস অবাধ্যতা থেকে তওবা্ করা, আশা করার পরিণাম এবং ক্ষমা থেকে নিরাশ না হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদানকারী দয়াময় আল্লাহর রহমতে সম্পর্কে। এটি কারীর উক্তি। ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, কতিপয় কপিতে (আল্লাহর রহমতের প্রশস্ততা সম্পর্কে অধ্যায়) এভাবে এসেছে এবং তাতে উল্লেখিত হাদীসের সাথে এর সামঞ্জস্যতা অস্পষ্ট নয়।
আল্লাহর শাস্তি ও রহমতের মাঝে ভারসাম্য
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩৬৭-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩৬৭-[৩]
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «لَوْ يَعْلَمُ الْمُؤْمِنُ مَا عِنْدَ اللّٰهِ مِنَ الْعُقُوبَةِ مَا طَمِعَ بِجَنَّتِه أَحَدٌ وَلَوْ يَعْلَمُ الْكَافِرُ مَا عِنْدَ اللّٰهِ مِنَ الرَّحْمَةِ مَا قَنَطَ مِنَ جَنَّتِه أَحَدٌ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে কি শাস্তি রয়েছে মুমিন বান্দা যদি তা জানত, তাহলে কেউই তাঁর জান্নাতের আশা করত না। আর কাফির যদি জানত আল্লাহর কাছে কি দয়া রয়েছে, তাহলে কেউই তাঁর জান্নাত হতে নিরাশ হত না। (বুখারী, মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ২৭৫৫, শু‘আবূল ঈমান ৯৬৯, ইবনু হিব্বান ৬৫৬, সহীহ ৩৩৭৯, তিরমিযী ৩৫৪২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৬৭-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুমিনের অন্তরের দুই বড় অবস্থা—ভয় ও আশা—একসাথে শেখানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুমিন যদি আল্লাহর কাছে কী শাস্তি আছে তা জানত, তাহলে কেউ তাঁর জান্নাতের আশা করত না। আর কাফির যদি আল্লাহর কাছে কী দয়া আছে তা জানত, তাহলে কেউ তাঁর জান্নাত থেকে নিরাশ হত না। এখানে ভয় দেখিয়ে হতাশ করা হয়নি এবং আশা দেখিয়ে গাফেল করা হয়নি। বরং শিক্ষা হলো, আল্লাহর শাস্তি সত্য, তাঁর রহমতও সত্য। তাই বান্দার উচিত গুনাহ থেকে ভয় পাওয়া, আবার তাওবাহ ও রহমতের আশা না হারানো। এই ভারসাম্য ঈমানের জীবনে খুব দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর শাস্তিকে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
- আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়াও ঠিক নয়।
- মুমিনের জীবন ভয় ও আশার ভারসাম্যে চলা উচিত।
