১০/৪. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৮৮-[৮] - সালাত ও ঘুমের সময় তাসবীহ

সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে - প্রথম অনুচ্ছেদ

الصباحবা সকাল হলো- ফজর উদিত হওয়া থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত। আর সন্ধ্যা সূর্য অস্ত হওয়া থেকে। যেমনটি রাগিব (রহঃ) বর্ণনা করেছেন।নাফি‘ ইবনু আযরাক (রহঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এর কাছে এসে বললেনঃ আপনি কুরআনুল কারীমে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পেয়েছেন কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। অতঃপর তিলাওয়াত করলেনঃفَسُبْحَانَ اللهِ حِيْنَ تُمْسُوْنَতিনি বলেন, এর দ্বারা মাগরিব ও ‘ইশার সালাত উদ্দেশ্য।وَحِيْنَ تُصْبِحُوْنَএর দ্বারা ফজরের সালাত উদ্দেশ্য,وَعَشِيًّاএর দ্বারা ‘আসরের সালাত এবংوَحِيْنَ تُظْهِرُوْنَএর দ্বারা যুহরের সালাত উদ্দেশ্য। (সূরা আর্ রূম ৩০ : ১৭-১৮)আর এ হলো সাহাবায়ে কিরামদেরصباح(সকাল)مساء(সন্ধ্যা)-এর ব্যাখ্যা। আর মুজাহিদ (রহঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে যে, সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ব্যতীতالمساءবা সন্ধ্যা হবে না। অতএব উক্ত সময়ের জিকিরগুলো(أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلّٰهِ) এরূপ হবে। ‘আল্লামা নাবাবী (রহঃ) এ অধ্যায়ের অধীনে উল্লেখিত জিকির-আযকার সম্পর্কে বলেনঃ আমি জানি যে, নিশ্চয় এ অধ্যায়টি অত্যন্ত ব্যাপক, এ অধ্যায়ের তুলনায় ব্যাপক কোন অধ্যায় কিতাবটি (মিশকাতুল মাসাবীহ)-তে নেই। আর আমি এ ব্যাপকতার মাঝেও সংক্ষিপ্তকরণের ক্ষেত্রে কিছু আলোচনা করব ইনশা-আল্ল-হ। সুতরাং যে তার সমস্ত ‘আমল (অধ্যায়ে উল্লেখিত সমস্ত জিকির-আযকার) করতে সক্ষম হবে এটা তার জন্য নিয়ামত, আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে অনুগ্রহ এবং তার জন্য সুখবর। আর যে সমস্ত জিকির-আযকার করতে অক্ষম, সে যেন সংক্ষিপ্তাকারে হলেও এ জিকির-আযকারগুলো করে, এমনকি একটি জিকির হলেও।অতঃপর ‘আল্লামা নাবাবী (রহঃ) সকাল-সন্ধ্যা, ইশরাক, সূর্য উদিত হওয়ার আগে এবং অস্ত যাওয়ার পরের জিকির, তাসবীহ ও দু‘আর নির্দেশ সংক্রান্ত কুরআনুল কারীমের আয়াতে কারীমাগুলো উল্লেখ করলেন।

সালাতের পর ও ঘুমের আগে ফাতিমার তাসবীহ

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩৮৮-[৮]

وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: جَاءَتْ فَاطِمَةُ إِلَى النَّبِىِّ ﷺ تَسْأَلُه خَادِمًا فَقَالَ: «أَلَا أَدُلُّكِ عَلٰى مَا هُوَ خَيْرٌ مِنْ خَادِمٍ؟ تُسَبِّحِينَ اللّٰهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَتَحْمَدِينَ اللّٰهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَتُكَبِّرِينَ اللّٰهَ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَعِنْدَ مَنَامِكِ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন ফাতিমা (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর কাছে একজন খাদিম চাইতে আসলেন। তিনি (ﷺ) বললেন, আমি কি তোমাকে এমন পথ দেখাবো না, যা তোমার জন্য খাদিমের চেয়ে অনেক উত্তম হবে? তা হলো প্রত্যেক সালাতের সময় ও ঘুমানোর সময় পড়বে তেত্রিশবার ‘সুবহা-নাল্ল-হ’, তেত্রিশবার ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ ও চৌত্রিশবার ‘আল্ল-হু আকবার’। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭২৮।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৮৮-[৮]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একজন খাদিম চাইতে এসেছিলেন। এর উত্তরে তিনি তাঁকে এমন একটি আমল শেখালেন, যা তাঁর জন্য খাদিমের চেয়ে উত্তম বলা হয়েছে। আমলটি হলো প্রত্যেক সালাতের সময় এবং ঘুমানোর সময় ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া। এখানে তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীর একসঙ্গে এসেছে। এটি শুধু ঘুমের যিকির নয়, সালাতের পরের যিকির হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, মানুষের প্রয়োজন থাকলেও আল্লাহর স্মরণ তাকে এমন কল্যাণের পথে নিতে পারে, যা বাহ্যিক সাহায্যের চেয়েও মূল্যবান।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সালাতের পর ও ঘুমানোর সময় নির্দিষ্ট যিকিরের শিক্ষা এসেছে।
  • ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়তে বলা হয়েছে।
  • মানুষের প্রয়োজনের জবাবে নবীজির শিক্ষা ছিল আল্লাহর স্মরণে ফিরে যাওয়া।
  • যিকিরকে দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে যুক্ত করা যায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন