১০/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪০৫-[২৫] - ঘুমের আগে সূরা পড়ার ফজিলত
সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ঘুমের আগে কুরআন তিলাওয়াত ও নিরাপত্তার দোআ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৪০৫-[২৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৪০৫-[২৫]
وَعَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَأْخُذُ مَضْجَعَه بِقِرَاءَةِ سُورَةٍ مِنْ كِتَابِ اللّٰهِ إِلَّا وَكَّلَ اللّٰهُ بِه مَلَكًا فَلَا يَقْرَبُه شَىْءٌ يُؤْذِيْهِ حَتّٰى يَهُبَّ مَتٰى هَبَّ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ
শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম কোরআন মাজীদের যে কোন একটি সূরা পড়ে বিছানায় যাবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য অবশ্যই একজন মালাক (ফেরেশতা) নিয়োজিত করে দেবেন। অতঃপর কোন ক্ষতিকারক জিনিস তার কাছে পৌঁছতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না ঘুম থেকে সে জেগে ওঠে। (তিরমিযী)[১]
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ৩৪০৭, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৩৪৫, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫২১৮, আহমাদ ১৭১৩৩। কারণ এর সানাদে رجل (ব্যক্তি) একজন মাজহূল রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪০৫-[২৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঘুমের আগে কুরআন মাজীদের কোনো একটি সূরা পড়ার ফজিলত এসেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি আল্লাহর কিতাবের একটি সূরা পড়ে বিছানায় যায়, আল্লাহ তার জন্য একজন মালাক নিয়োজিত করেন। এরপর সে জেগে ওঠা পর্যন্ত কোনো ক্ষতিকর জিনিস তার কাছে পৌঁছতে পারে না—এভাবে বর্ণনায় এসেছে। এখানে কুরআন তিলাওয়াতকে ঘুমের আদবের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। একজন মুমিন দিনের শেষ সময়ে আল্লাহর কালাম পড়ে নিজের রাতকে ইবাদতের স্বাদে সাজাতে পারে। হাদিসের ভাষায় নির্দিষ্ট সূরার নাম বলা হয়নি; বলা হয়েছে কুরআনের একটি সূরা। তাই ব্যাখ্যায় এটুকুই সীমিত রাখা উচিত। তাই ঘুমের আগে তিলাওয়াতকে নিরাপত্তা ও আল্লাহর স্মরণের সাথে যুক্ত করে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঘুমানোর আগে কুরআনের কোনো সূরা পড়ার ফজিলত এসেছে।
- আল্লাহ ফেরেশতা নিয়োজিত করেন—এ কথা বর্ণনায় আছে।
- হাদিসে নির্দিষ্ট কোনো সূরার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
- রাতের ঘুমের আগে কুরআন তিলাওয়াত সুন্দর আমল হিসেবে বোঝা যায়।
