১০/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪০৮-[২৮] - ঋণমুক্তি ও দারিদ্র্য থেকে আশ্রয়
সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ঘুমের দোআ: ঋণমুক্তি ও দারিদ্র্য থেকে আশ্রয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৪০৮-[২৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৪০৮-[২৮]
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ أَنَّه كَانَ يَقُولُ إِذَا أَوٰى إِلٰى فِرَاشِه: «اَللّٰهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَرَبَّ الْأَرْضِ وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوٰى مُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيْلِ وَالْقُرْاٰنِ أعوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ ذِىْ شَرٍّ أَنْتَ اٰخِذٌ بِنَاصِيَتِه أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الْاٰخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَىْءٌ اقْضِ عَنِّى الدَّيْنَ وَاغْنِنِىْ مِنَ الْفَقْرِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ مَعَ اخْتِلَافٍ يَسِيْرٍ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (ﷺ) বিছানায় ঘুমানোর সময় বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা রব্বাস্ সামা-ওয়া-তি ওয়া রববাল আরযি ওয়া রব্বা কুল্লি শাইয়িন, ফালিকল হাব্বি ওয়ান্ নাওয়া- মুনযিলাত্ তাওরা-তি, ওয়াল ইঞ্জীলি ওয়াল কুরআ-নি। আ‘ঊযুবিকা মিন শাররি কুল্লি যী শাররি। আন্তা আ-খিযুন বিনা-সিয়াতিহী, আন্তাল আও্ওয়ালু, ফালায়সা কবলাকা শায়উন, ওয়া আন্তাল আ-খিরু, ফালায়সা বা‘দাকা শায়উন, ওয়া আন্তায্ যা-হিরু, ফালায়সা ফাওককা শাইউন। ওয়া আন্তাল বা-ত্বিনু, ফালায়সা দূনাকা শায়উন, ইকযি ‘আন্নিদ্দায়না, ওয়া আগ্নিনী মিনাল ফাকরি’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! যিনি আসমানের রব, জমিনের রব, তথা প্রতিটি জিনিসের রব, শস্যবীজ ও খেজুর দানা ফেড়ে গাছ-পালা উৎপাদনকারী; তাওরাত, ইঞ্জীল ও কোরআন অবতীর্ণকারী, আমি তোমার কাছে এমন প্রতিটি অনিষ্টকারীর অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাই যা তোমার অধিকারে রয়েছে। তুমিই প্রথম- তোমার আগে কেউ ছিল না। তুমিই শেষ- তোমার পরে আর কেউ থাকবে না। তুমি প্রকাশ্য- তোমার চেয়ে প্রকাশ্য আর কিছু নেই। তুমি অন্তর্যামী- তোমার চেয়ে গোপনীয়তা আর কিছু নেই। তুমি আমাকে ঋণমুক্ত করে দাও এবং দারিদ্র্যতা হতে বাঁচিয়ে রেখ [স্বচ্ছলতা দাও])।(আবূ দাঊদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; কিছু ভিন্নতাসহ মুসলিমেও)[১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৫০৫১, তিরমিযী ৩৪০০, ইবনু মাজাহ ৩৮৭৩, আহমাদ ৮৯৬০, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ১২১২/৯২৩, সহীহ আল জামি‘ ৪৪২৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪০৮-[২৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঘুমানোর সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দোআ পড়তেন, তা এসেছে। দোআতে আল্লাহকে আসমান, জমিন ও সব কিছুর রব বলা হয়েছে। তাঁকে শস্যবীজ ও দানা ফেড়ে গাছ উৎপন্নকারী এবং তাওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআন অবতীর্ণকারী হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। এরপর প্রতিটি অনিষ্টকারীর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে, কারণ সবকিছু তাঁর অধীনে। দোআতে আল্লাহর চারটি নামগত অর্থও এসেছে—তিনি প্রথম, শেষ, প্রকাশ্য ও অন্তর্যামী। শেষে ঋণ পরিশোধে সাহায্য এবং দারিদ্র্য থেকে স্বচ্ছলতা চাওয়া হয়েছে। তাই এই ঘুমের দোআ ভরসা, আশ্রয়, ঋণমুক্তির আবেদন এবং আল্লাহর মহত্ত্ব—সব একসাথে শেখায়। দিনের শেষে এমন দোআ মানুষকে মনে করায়, সব ভয়, অভাব ও দায় থেকে মুক্তির আসল দরজা আল্লাহর কাছেই।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহকে সব কিছুর রব হিসেবে স্মরণ করে দোআ করা হয়েছে।
- প্রতিটি অনিষ্টকারীর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এসেছে।
- ঋণমুক্তি ও দারিদ্র্য থেকে রক্ষা চাওয়ার ভাষা দোআতে আছে।
- ঘুমের আগে আল্লাহর নাম ও গুণ স্মরণ করা হয়েছে।
