১০/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪০৯-[২৯] - শয়তান থেকে আশ্রয় ও ক্ষমা
সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
রাতের ঘুমের দোআ: ক্ষমা ও শয়তান থেকে আশ্রয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৪০৯-[২৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৪০৯-[২৯]
وَعَن أَبِى الْأَزْهَرِ الْأَنْمَارِيِّ أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ كَانَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَه مِنَ اللَّيْلِ قَالَ: «بسمِ اللّٰهِ وَضَعْتُ جَنْبِى لِلّٰهِ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِىْ ذَنْبِىْ وَاخْسَأْ شَيْطَانِىْ وَفُكَّ رِهَانِىْ وَاجْعَلْنِىْ فِى النَّدِىِّ الْأَعْلٰى». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
আবূল আযহার আল আনমারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে বিছানায় ঘুমানোর সময় বলতেন, ‘‘বিস্মিল্লা-হি ওয়াযা‘তু যাম্বী লিল্লা-হি, আল্ল-হুম্মাগফিরলী যাম্বী ওয়াখসা’ শায়ত্ব-নী ওয়া ফুক্কা রিহা-নী, ওয়াজ্‘আল্নী ফিন্ নাদিয়্যিল আ‘লা-’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর নামে, আল্লাহর উদ্দেশে আমি পার্শ্ব রাখলাম। হে আল্লাহ! তুমি আমার অপরাধ ক্ষমা করো। আমার কাছ থেকে শয়তানকে তাড়িয়ে দাও। আমার ঘাড়কে মুক্ত করো এবং আমাকে উচ্চাসনে সমাসীন করো।)। (আবূ দাঊদ)[১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৫০৫৪, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৭৫৮, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২০১২, সহীহ আল জামি‘ ৪৬৪৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪০৯-[২৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতে শোয়ার সময়ের দোআ এসেছে। তিনি বলতেন—আল্লাহর নামে, আল্লাহর উদ্দেশে আমি আমার পার্শ্ব রাখলাম। এরপর তিনি আল্লাহর কাছে নিজের অপরাধ ক্ষমা চাইতেন, শয়তানকে দূরে করার আবেদন করতেন, নিজের ঘাড়কে মুক্ত করার কথা বলতেন এবং উচ্চাসনে স্থান দেওয়ার আবেদন করতেন। এখানে ঘুমের দোআ খুব সরল কিন্তু অর্থে গভীর। মানুষ যখন ঘুমাতে যায়, তখন সে নিজেকে আল্লাহর কাছে সঁপে দেয়। নিজের ভুলের ক্ষমা চায়, শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচতে চায় এবং আল্লাহর কাছে উত্তম অবস্থান আশা করে। এই দোআতে রাতের শুরুতে তাওবা, আশ্রয় ও আল্লাহর ওপর ভরসা একসাথে দেখা যায়। তাই বিছানায় যাওয়ার মুহূর্তটিও ক্ষমা, আশ্রয় ও আশা নিয়ে আল্লাহর দিকে ফেরার সময় হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঘুমানোর সময় আল্লাহর নামে শোয়ার কথা এসেছে।
- নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাওয়ার শিক্ষা আছে।
- শয়তানকে দূরে করার জন্য আল্লাহর কাছে দোআ করা হয়েছে।
- আল্লাহর কাছে মুক্তি ও উচ্চ অবস্থানের আবেদন করা হয়েছে।
