১০/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪১০-[৩০] - ঘুমের আগে আল্লাহর প্রশংসা ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয়
সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ঘুমের আগে শুকরিয়া ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয়ের দোআ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৪১০-[৩০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৪১০-[৩০]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ كَانَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَه مِنَ اللَّيْلِ قَالَ: «اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِىْ كَفَانِىْ وَاٰوَانِىْ وَأَطْعَمَنِىْ وَسَقَانِىْ وَالَّذِىْ مَنَّ عَلَىَّ فَأَفْضَلَ وَالَّذِىْ أَعْطَانِىْ فَأَجْزَلَ الْحَمْدُ لِلّٰهِ عَلٰى كُلِّ حَالٍ اَللّٰهُمَّ رَبَّ كُلِّ شَىْءٍ وَمَلِيكَه وَإِلٰهَ كُلِّ شَىْءٍ أَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে ঘুমানোর সময় বলতেন, ‘‘আলহাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী কাফা-নী, ওয়াআ-ওয়া-নী, ওয়া আত্ব‘আমানী, ওয়া সাকা-নী, ওয়াল্লাযী মান্না ‘আলাইয়্যা ফাআফযালা ওয়াল্লাযী আ‘ত্বা-নী ফাআজ্যালা, আলহাম্দুলিল্লা-হি ‘আলা- কুল্লি হা-ল, আল্ল-হুম্মা রব্বা কুল্লি শাইয়িন ওয়া মালীকাহূ, ওয়া ইলা-হা কুল্লি শাইয়িন আ‘ঊযুবিকা মিনান্না-র’’ (অর্থাৎ- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার প্রয়োজন পূরণ করলেন, আমাকে রাতে আশ্রয় দিলেন, আমাকে খাওয়ালেন, আমাকে পান করালেন, যিনি আমার প্রতি দয়াপ্রদর্শন করলেন, অনেক অনুগ্রহ করলেন, যিনি আমাকে দান করলেন এবং যথেষ্ট দান করলেন। তাই সকল অবস্থায় আল্লাহর শুকর। হে আল্লাহ! যিনি প্রতিটি বস্তুর প্রতিপালক ও এর অধিকারী এবং প্রত্যেক বস্তুর উপাস্য। আমি তোমার কাছে জাহান্নামের আগুন হতে আশ্রয় চাই। (আবূ দাঊদ)[১]
[১] সানাদ সহীহ : আবূ দাঊদ ৫০৫৮, আহমাদ ৫৯৮৩, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ৩৯৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪১০-[৩০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাতের ঘুমের আগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি প্রশংসা ও আশ্রয়ের দোআ এসেছে। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করতেন, যিনি প্রয়োজন পূরণ করেছেন, আশ্রয় দিয়েছেন, খাবার ও পানি দিয়েছেন, দয়া করেছেন এবং দান করেছেন। তারপর তিনি বলতেন—সকল অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা। দোআর শেষ অংশে আল্লাহকে প্রতিটি বস্তুর রব, মালিক ও ইলাহ বলে জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। এখানে ঘুমের আগে শুকরিয়া, নিয়ামত স্মরণ এবং আখিরাতের ভয়—সব মিলেছে। মানুষ দিনের শেষে খাবার, পানীয়, আশ্রয় ও নিরাপত্তাকে আল্লাহর দান হিসেবে স্বীকার করলে হৃদয়ে কৃতজ্ঞতা তৈরি হয়। তাই ঘুমের আগে এই দোআ পড়া মানে নিজের পাওয়া নিয়ামতগুলো মনে করে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবার, পানি, আশ্রয় ও দানের জন্য আল্লাহর প্রশংসা এসেছে।
- সকল অবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের ভাষা দোআতে আছে।
- জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।
- রাতের শেষে নিয়ামত স্মরণ করা মুমিনের সুন্দর অভ্যাস।
