১০/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪১৭-[২] - কঠিন সময়ে তাওহীদের দোআ
বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দোয়া - প্রথম অনুচ্ছেদ
বিভিন্ন সময়ে পাঠ করার জন্য আলাদাভাবে ভিন্ন ভিন্ন দু‘আ রয়েছে, শারী‘আত কর্তৃক যা নির্ধারিত। আর এখানে সময় হলো কাজের জন্য নির্ধারিত কাল বা সময়। যেমন- সালাত, যাকাত ও হাজ্জের সময়। এছাড়াও অবস্থাভেদে বিভিন্ন দু‘আ শারী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত। অর্থাৎ- বিভিন্ন অবস্থার জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন দু‘আগুলো শারী‘আত কর্তৃক বর্ণিত রয়েছে। যেমন- রাগের অবস্থা ও যুদ্ধের জন্য শত্রুর মুখোমুখি সারিবদ্ধ অবস্থা এবং আরো অনুরূপ অনেক অবস্থা রয়েছে। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময়গুলোতে পঠিতব্য দু‘আগুলো বর্ণিত রয়েছে, শারী‘আত যা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে।
বিপদের দোআ: কঠিন সময়ে আল্লাহর দিকে ফেরা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৪১৭-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৪১৭-[২]
وَعَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ كَانَ يَقُولُ عِنْدَ الْكَرْبِ: «لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيْمِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বিপদের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ‘আযীমুল হালীম, লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু রব্বুল ‘আর্শিল ‘আযীম; লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু রব্বুস্ সামা-ওয়া-তি, ওয়া রব্বুল আরযি রব্বুল ‘আর্শিল কারীম’’ (অর্থাৎ- মহান ধৈর্যশীল আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই। মহান ‘আরশের মালিক আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, যিনি সমগ্র আকাশমণ্ডলীর রব, মহান ‘আরশের রব।)। (বুখারী, মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ৬৩৪৬, মুসলিম ২৭৩০, আহমাদ ২০১২, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১০৭৭২, সহীহ আল জামি‘ ৪৯৪০, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১১৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪১৭-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিপদের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দোআ বলতেন, তা এসেছে। দোআর মূল কথা তাওহীদ: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই। তাঁকে মহান, ধৈর্যশীল, মহান আরশের রব, আসমান ও জমিনের রব এবং মহান আরশের রব বলা হয়েছে। লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, এখানে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট সমস্যার নাম নেই; বরং বিপদের সময় আল্লাহর মহত্ত্ব ও একত্ব স্মরণ করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, কঠিন অবস্থায় মুমিন নিজের অস্থিরতা নিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যায় এবং তাঁর মালিকানা ও রবুবিয়াতকে মনে করে। তাই ‘বিপদের দোআ’ বলতে এই হাদিসে আল্লাহর বড়ত্বের ঘোষণা ও তাঁর ওপর ভরসার ভাষা শেখানো হয়েছে। তাই বিপদের দোআ হিসেবে এটি ভয় বা দুর্বলতার মধ্যে আল্লাহর বড়ত্ব মনে করিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিপদের সময় তাওহীদের বাক্য পড়ার কথা এসেছে।
- আল্লাহকে মহান, ধৈর্যশীল এবং আরশের রব হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।
- আসমান ও জমিনের রব আল্লাহ—এই বিশ্বাস দোআতে আছে।
- কঠিন সময়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার ভাষা শেখানো হয়েছে।
