১০/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪১৮-[৩] - রাগের সময় শয়তান থেকে আশ্রয়
বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দোয়া - প্রথম অনুচ্ছেদ
বিভিন্ন সময়ে পাঠ করার জন্য আলাদাভাবে ভিন্ন ভিন্ন দু‘আ রয়েছে, শারী‘আত কর্তৃক যা নির্ধারিত। আর এখানে সময় হলো কাজের জন্য নির্ধারিত কাল বা সময়। যেমন- সালাত, যাকাত ও হাজ্জের সময়। এছাড়াও অবস্থাভেদে বিভিন্ন দু‘আ শারী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত। অর্থাৎ- বিভিন্ন অবস্থার জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন দু‘আগুলো শারী‘আত কর্তৃক বর্ণিত রয়েছে। যেমন- রাগের অবস্থা ও যুদ্ধের জন্য শত্রুর মুখোমুখি সারিবদ্ধ অবস্থা এবং আরো অনুরূপ অনেক অবস্থা রয়েছে। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময়গুলোতে পঠিতব্য দু‘আগুলো বর্ণিত রয়েছে, শারী‘আত যা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে।
রাগ কমানোর দোআ: আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৪১৮-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৪১৮-[৩]
وَعَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدَ قَالَ: اسْتَبَّ رَجُلَانِ عِنْدَ النَّبِىِّ ﷺ وَنَحْنُ عِنْدَه جُلُوسٌ وَأَحَدُهُمَا يَسُبُّ صَاحِبَه مُغْضَبًا قَدِ احْمَرَّ وَجْهُه فَقَالَ النَّبِىُّ ﷺ: «إِنِّىْ لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَوْ قَالَهَا لَذَهَبَ عَنْهُ مَا يَجِدُ أَعُوذُ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ». فَقَالُوا لِلرَّجُلِ: لَا تَسْمَعُ مَا يَقُولُ النَّبِىُّ ﷺ؟ قَالَ: إِنِّىْ لَسْتُ بِمَجْنُوْنٍ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
সুলাইমান ইবনু সুরদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন নবী (ﷺ)-এর সামনে দুই ব্যক্তি পরস্পরকে গাল-মন্দ বলতে লাগল, আমরা তখন তাঁর পাশে বসা ছিলাম। তন্মধ্যে একজন তার সাথীকে খুব রাগতস্বরে গাল-মন্দ করছিল। এতে তার মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এটা দেখে নবী (ﷺ) বললেন, আমি এমন একটি কালাম (বাক্য) জানি, যদি সে তা পড়ে তাহলে তার রাগ চলে যাবে। সেটা হলো ‘‘আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ্ শায়ত্ব-নির রজীম’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান হতে আশ্রয় চাই)। তখন সাহাবীগণ লোকটিকে বললেন, নবী (ﷺ) কি বলছেন, তুমি কী শুনছ না? লোকটি বলল, নিশ্চয়ই আমি ভূতগ্রস্ত (পাগল) নই। (বুখারী, মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ৬১১৫, মুসলিম ২৬১০, আবূ দাঊদ ৪৭৮১, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৫৩৮২, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৬৪৮৮, ইবনু হিব্বান ৫৬৯২, সহীহ আত্ তারগীব ২৭৫৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪১৮-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুই ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে একে অন্যকে গালমন্দ করছিল। একজন খুব রাগে কথা বলছিল এবং তার মুখমণ্ডল বদলে গিয়েছিল। তখন নবীজি বললেন, তিনি এমন একটি বাক্য জানেন, যদি লোকটি তা বলে, তাহলে তার যে রাগ হচ্ছে তা চলে যাবে। বাক্যটি হলো—আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম; অর্থাৎ বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। সাহাবীগণ লোকটিকে বললেন, নবীজি কী বলছেন শুনছ না? সে বলল, আমি তো পাগল নই। এখানে শিক্ষা খুব সরল: রাগের সময় শয়তানের প্রভাব থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া উচিত এবং উত্তেজনার সময় ভালো কথা গ্রহণ করা দরকার। রাগের মুহূর্তে বাক্যটি ছোট হলেও দিকনির্দেশনা পরিষ্কার—শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাগের সময় শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে।
- গালমন্দ ও রাগের মুহূর্তে নিজেকে সামলানোর শিক্ষা আছে।
- নবীজি নির্দিষ্ট বাক্য হিসেবে আউযুবিল্লাহ পড়ার কথা বলেছেন।
- সঠিক উপদেশ শুনে গ্রহণ করা জরুরি—ঘটনাটি তা মনে করায়।
