২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪১-[৪৪] - হাদিস বর্ণনার শব্দগত সতর্কতা
ইলম (বিদ্যা) - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
হাদিস বর্ণনায় শব্দের সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৪১-[৪৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৪১-[৪৪]
رَوَاهُ الدَّارِمِىُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ جَدِّه وَفِىْ رِوَايَتِه اَوْ مُرَاءٍ بَدْلٌ أَوْ مُخْتَالٌ
আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
দারিমী এ হাদীসটি ‘আমর ইবনু শু’আয়ব থেকে তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। হাদীসের এ বর্ণনায় শব্দ مختال এর পরিবর্তে مراء উল্লেখ রয়েছে। [১]
[১] সহীহ : ইবনু মাজাহ্ ৩৭৫৩, সহীহুল জামি‘ ৭৭৫৪। দারিমী ‘কিতাবুর্ রিক্বাক’-এ য‘ঈফ সানাদে বর্ণনা করেছেন। ইবনু মাজাহ্ও এটি বর্ণনা করেছেন হাদীস নং ৩৭৫৩। এ হাদীসটির সানাদ সহীহ।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪১-[৪৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মূলত একটি বর্ণনাগত তথ্য এসেছে। দারিমী ‘আমর ইবনু শু‘আয়ব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। এখানে বলা হয়েছে, এক বর্ণনায় “مختال” শব্দের বদলে “مراء” শব্দ এসেছে। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, হাদিস শেখা ও বুঝতে শব্দের ভিন্নতা খেয়াল করা জরুরি। কখনো একই বিষয়ে বর্ণনার ভাষায় সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। একজন জ্ঞানপ্রার্থী বা শিক্ষক যখন দ্বীনের ইলম নিয়ে কথা বলেন, তখন তাকে সতর্ক হতে হয়। ইলমের আমানত হলো, যা পাওয়া গেছে তা ঠিকভাবে বলা। এ কারণে হাদিস বর্ণনা, রেওয়ায়েতের শব্দ, সনদ ও অর্থ বুঝে কথা বলা ইসলামী জ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদিস বর্ণনায় শব্দের ভিন্নতা থাকলে তা সতর্কতার সাথে উল্লেখ করা উচিত।
- ইলমের ক্ষেত্রে নিজের থেকে শব্দ বদলানো বা অর্থ বাড়ানো নিরাপদ নয়।
- রেওয়ায়েত বোঝার সময় মূল শব্দ ও বর্ণনার সূত্রকে গুরুত্ব দিতে হয়।
- দ্বীনি জ্ঞান শেখায় আমানতদারিতা একটি বড় দায়িত্ব।
