২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪২-[৪৫] - জ্ঞান ছাড়া ফাতওয়ার ভয়াবহতা
ইলম (বিদ্যা) - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
জ্ঞান ছাড়া ফাতওয়া দেওয়ার ভয়াবহতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৪২-[৪৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৪২-[৪৫]
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أُفْتِيَ بِغَيْرِ عِلْمٍ كَانَ إِثْمُه عَلى مَنْ أَفْتَاهُ وَمَنْ أَشَارَ عَلى أَخِيهِ بِأَمْرٍ يَعْلَمُ أَنَّ الرُّشْدَ فِي غَيْرِه فَقَدْ خَانَه. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে ভুল ফাতাওয়া দেয়া হয়েছে অর্থাৎ বিনা ইলমে (বিদ্যায়) ফাতাওয়া দেয়া হয়েছে এর গুনাহ তার উপর বর্তাবে যে তাকে ফাতাওয়া দিয়েছে। আর যে ব্যক্তি তার কোন ভাইকে (অপরকে) এমন কোন কাজের পরামর্শ দিয়েছে, যা কল্যাণ হবে না বলে সে জানে, সে নিশ্চয়ই তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। [১]
[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৩৬৫৭, সহীহুল জামি‘ ৬০৬৮। ইমাম দারিমীও এটিকে (হাদীস নং ১৫৯) হাসান বলে উল্লেখ করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪২-[৪৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। প্রথমত, কেউ যদি জ্ঞান ছাড়া ফাতওয়া দেয় এবং সেই ফাতওয়ার কারণে মানুষ ভুল পথে যায়, তাহলে তার গুনাহ ফাতওয়া দেওয়া ব্যক্তির উপর বর্তাবে। তাই দ্বীনি বিষয়ে কথা বলা, মাসআলা বলা বা পরামর্শ দেওয়া খুব বড় দায়িত্ব। দ্বিতীয়ত, কেউ যদি জানে যে তার ভাইয়ের জন্য অন্য পথ ভালো, তবু সে এমন পরামর্শ দেয় যা কল্যাণকর নয়, তাহলে সে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। এখানে ফাতওয়া, দ্বীনি জ্ঞান, সঠিক পরামর্শ ও আমানতের শিক্ষা একসাথে এসেছে। ইসলামী জ্ঞান না থাকলে চুপ থাকা নিরাপদ; আর জানা থাকলে সত্য ও কল্যাণের পথ দেখানোই দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জ্ঞান ছাড়া ফাতওয়া দেওয়া বড় দায়িত্বহীনতা।
- ভুল ফাতওয়ার ক্ষতি হলে তার গুনাহ ফাতওয়াদাতার উপর পড়তে পারে।
- কারো ভালো না জেনেও ভুল পরামর্শ দেওয়া বিশ্বাসঘাতকতার কাজ।
- দ্বীনি বিষয়ে কথা বলার আগে সঠিক ইলম থাকা দরকার।
