২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪৪-[৪৭] - কুরআন ও ফারায়িয শেখার গুরুত্ব
ইলম (বিদ্যা) - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
কুরআন ও ফারায়িয শেখার গুরুত্ব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৪৪-[৪৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৪৪-[৪৭]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ تَعَلَّمُوا الْقُرْاۤنَ وَالْفَرَائِضَ وَعَلِّمُوا النَّاسَ فَإِنِّي مَقْبُوضٌ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা (আমার নিকট হতে) ফারায়িয ও কোরআন শিখে নাও এবং লোকদেরকে তা শিখিয়ে দাও। কারণ আমাকে উঠিয়ে নেয়া হবে (আমার মৃত্যু হবে)। [১]
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২০৯১, য‘ঈফুল জামি‘ ২৪৫০, দারিমী ১/৭৩, হাকিম ৪/৩৩৩। [এ হাদীসে ইযতিরাব আছে। অর্থাৎ- সানাদে রাবীর নাম এবং মাতানে শব্দের কম বেশি হয়েছে, এছাড়া ইমাম আহমাদ (রহঃ) মুহাম্মাদ বিন আল্ ক্বাসিম আল্ আসাদী-কে য‘ঈফ বলেছেন। আলবানী বলেন, বরং আহমাদ, দারাকুত্বনী একে মিথ্যাবাদী বলেছেন। এছাড়া এর সানাদে শাহর বিন হাওশাব রাবী য‘ঈফ। তবে ইমাম তিরমিযী, দারিমী ও হাকিম এ হাদীসটিকে অন্য একটি মারফূ‘ সানাদে বর্ণনা করেছেন। এটিকে হাকিম ও যাহাবী সহীহ বলেছেন।]
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪৪-[৪৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তোমরা কুরআন ও ফারায়িয শিখে নাও এবং মানুষকে তা শিখিয়ে দাও। এরপর তিনি বলেছেন, আমাকে উঠিয়ে নেওয়া হবে। এই কথার মধ্যে দ্বীনি ইলম সংরক্ষণের বড় শিক্ষা আছে। কুরআন শেখা শুধু নিজে পড়ার জন্য নয়; তা মানুষকে শেখানোও দায়িত্ব। একইভাবে ফারায়িয বা উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত জ্ঞান শেখার কথাও এসেছে, কারণ এটি মানুষের হক ও সম্পদের সাথে যুক্ত। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর জীবনের শেষ দিকের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উম্মতকে সতর্ক করেছেন, যেন তাঁর কাছ থেকে পাওয়া ইলম হারিয়ে না যায়। তাই কুরআন শিক্ষা, ফারায়িয শিক্ষা এবং মানুষের মাঝে ইলম ছড়িয়ে দেওয়া এই হাদিসের প্রধান বার্তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন শেখা এবং অন্যকে শেখানো গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি কাজ।
- ফারায়িযের জ্ঞান মানুষের অধিকার বুঝতে সাহায্য করে।
- নবী صلى الله عليه وسلم ইলম সংরক্ষণ ও প্রচারের দিকে উম্মতকে মনোযোগী করেছেন।
- শেখা ইলম শুধু নিজের কাছে রাখা নয়, প্রয়োজনমতো মানুষকে শেখানোও দায়িত্ব।
