২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৭-[৬০] - আমাকে শিক্ষকরূপে পাঠানো হয়েছে
ইলম (বিদ্যা) - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
নবী صلى الله عليه وسلم শিক্ষকরূপে পাঠানো হয়েছেন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৫৭-[৬০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫৭-[৬০]
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ مَرَّ بِمَجْلِسَيْنِ فِي مَسْجِدِه فَقَالَ كِلَاهُمَا عَلى خَيْرٍ وَأَحَدُهُمَا أَفْضَلُ مِنْ صَاحِبِه أَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَدْعُونَ اللهَ وَيَرْغَبُونَ إِلَيْهِ فَإِنْ شَاءَ أَعْطَاهُمْ وَإِنْ شَاءَ مَنَعَهُمْ وَأَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَتَعَلَّمُونَ الْفِقْهَ أَوِ الْعِلْمَ وَيُعَلِّمُونَ الْجَاهِلَ فَهُمْ أَفْضَلُ وَإِنَّمَا بُعِثْتُ مُعَلِّمًا ثُمَّ جَلَسَ فِيهِمْ. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে নবাবীতে অনুষ্ঠিত দুটি মজলিসের কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তিনি (ﷺ) বললেন, উভয় মজলিসই উত্তম কাজ করছে, কিন্তু এদের এক মজলিস অন্য মজলিস অপেক্ষা উত্তম। একটি দল ইবাদতে লিপ্ত, তারা অবশ্য আল্লাহর নিকট দোয়া করছে এবং আল্লাহর প্রতি তাদের আগ্রহ প্রকাশ করছে। আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন তাদের আশা পূর্ণও করতে পারেন, আবার ইচ্ছা করলে নাও পারেন। আর দ্বিতীয় দলটি হল ফাকীহ ও আলিমদের। তারা ইলম অর্জন করেছে এবং মূর্খদের শিখাচ্ছে, তারাই উত্তম। আর আমাকে শিক্ষকরূপে পাঠানো হয়েছে। অতঃপর তিনি (ﷺ) এ দলের সাথেই বসে গেলেন।” [১]
[১] য‘ঈফ : দারিমী ৩৪৯। এর সানাদ য‘ঈফ সিলসিলাতুল আহাদীসুয্ য‘ঈফাহ্ ওয়াল মাওযূ‘আহ্ প্রথম খণ্ডের হাঃ ১১ এর বর্ণনা রয়েছে।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৭-[৬০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁর মসজিদে দুটি মজলিসের পাশ দিয়ে গেলেন। এক দল আল্লাহর কাছে দোয়া করছিল এবং তাঁর প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছিল। নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, আল্লাহ চাইলে তাদের দিতে পারেন, চাইলে নাও দিতে পারেন। আর অন্য দল ফিকহ বা ইলম শিখছিল এবং অজ্ঞদের শেখাচ্ছিল। তিনি বললেন, তারাই উত্তম; আর আমাকে শিক্ষকরূপে পাঠানো হয়েছে। এরপর তিনি সেই ইলমের মজলিসে বসে গেলেন। এই হাদিসে দোয়ার মজলিসকে খারাপ বলা হয়নি; বরং উভয় দলকেই ভালো বলা হয়েছে। তবে ইলম শেখা ও শেখানোর মজলিসের বিশেষ মর্যাদা দেখানো হয়েছে। এতে বোঝা যায়, দ্বীনি শিক্ষা মানুষকে সরাসরি উপকার করে এবং নববী মিশনের বড় অংশ হলো শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দোয়া ও ইবাদতের মজলিস ভালো, তবে ইলম শেখা ও শেখানোর মর্যাদা বিশেষ।
- নবী صلى الله عليه وسلم নিজেকে শিক্ষকরূপে পাঠানো হয়েছে বলেছেন।
- অজ্ঞদের শেখানো দ্বীনি খেদমতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- ইলমের মজলিসে বসা ও অংশ নেওয়া প্রশংসনীয় কাজ।
