২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫০-[৫৩] - ইবাদতের চেয়ে তালীমের বড় মর্যাদা
ইলম (বিদ্যা) - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মানুষকে দ্বীনের কল্যাণ শেখানোর মর্যাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৫০-[৫৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫০-[৫৩]
وَعَنْهُ مُرْسَلًا قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَنْ رَجُلَيْنِ كَانَا فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ أَحَدُهُمَا كَانَ عَالِمًا يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ ثُمَّ يَجْلِسُ فَيُعَلِّمُ النَّاسَ الْخَيْرَ وَالْاۤخَرُ يَصُومُ النَّهَارَ وَيَقُومُ اللَّيْلَ أَيُّهُمَا أَفْضَلُ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَضْلُ هذَا الْعَالِمِ الَّذِي يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ ثُمَّ يَجْلِسُ فَيُعَلِّمُ النَّاسَ الْخَيْرَ عَلَى الْعَابِدِ الَّذِي يَصُومُ النَّهَارَ وَيَقُومُ اللَّيْلَ كَفَضْلِي عَلى أَدْنَاكُمْ رَجُلًا. رَوَاهُ الدَّارِمِيّ
হাসান আল বসরী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে বানী ইসরাঈলের দুইজন লোক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তাদের একজন ছিলেন আলিম, যিনি ওয়াক্তিয়া ফরজ সালাত আদায় করার পর বসে মানুষকে তালীম দিতেন। আর দ্বিতীয়জন দিনে সিয়াম পালন করতেন, গোটা রাত ইবাদাত করতেন (রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হল) এ দুই ব্যক্তির মধ্যে মর্যাদার দিক দিয়ে উত্তম কে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ওয়াক্তিয়া ফরজ সালাত আদায় করার পরপরই বসে বসে যে ব্যক্তি তালীম দেয়, সে ব্যক্তি যে দিনে সিয়াম পালন করে ও রাতে ইবাদাত করে তার চেয়ে তেমন বেশী মর্যাদাবান। যেমন- তোমাদের একজন সাধারণ মানুষের ওপর আমার মর্যাদা। [১]
[১] হাসান সহীহ : দারিমী ৩৪০। আলবানী বলেন, এর সানাদ হাসান সহীহ তবে হাদীসটি মুরসাল বটে, কিন্তু এর একটি মাওসূল শাহিদ হাদীস একে শক্তিশালী করছে। যা আবূ উমামাহ্ (রাঃ) আল বাহিলী থেকে বর্ণিত হয়েছে।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫০-[৫৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বানী ইসরাঈলের দুই ব্যক্তির কথা জিজ্ঞেস করা হয়। একজন ছিলেন আলিম; তিনি ফরজ সালাত আদায় করার পর বসে মানুষকে কল্যাণ শেখাতেন। আরেকজন দিনে সিয়াম রাখতেন এবং রাতে ইবাদত করতেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, যে আলিম ফরজ সালাত আদায়ের পর মানুষকে কল্যাণ শেখায়, তার মর্যাদা ওই ইবাদতকারী ব্যক্তির চেয়ে বেশি; যেমন নবী صلى الله عليه وسلم-এর মর্যাদা সাধারণ মানুষের ওপর। এখানে তালীমের মর্যাদা খুব স্পষ্ট। হাদিসটি নফল ইবাদতকে ছোট করে না; বরং শেখায় যে মানুষের উপকারে আসে এমন দ্বীনি শিক্ষা বড় কল্যাণের কাজ। আলিমের জ্ঞান শুধু তার নিজের জন্য নয়; মানুষকে ভালো শেখানোও তার দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফরজ ইবাদতের পর মানুষকে দ্বীনের কল্যাণ শেখানো বড় কাজ।
- শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, অন্যকে শিক্ষা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
- আলিমের জ্ঞান মানুষের উপকারে লাগা উচিত।
- তালীমের মাধ্যমে সমাজে দ্বীনের ভালো কথা ছড়িয়ে পড়ে।
