২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪৯-[৫২] - ইসলাম জীবন্ত করতে ইলম শেখার মর্যাদা
ইলম (বিদ্যা) - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ইসলাম জীবন্ত করতে ইলম শেখার মর্যাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৪৯-[৫২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৪৯-[৫২]
وَعَنِ الْحَسَنِ مُرْسَلًا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ جَاءَهُ الْمَوْتُ وَهُوَ يَطْلُبُ الْعِلْمَ لِيُحْيِيَ بِهِ الْإِسْلَامَ فَبَيْنَه وَبَيْنَ النَّبِيِّينَ دَرَجَةٌ وَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ. رَوَاهُ الدَّارِمِي
হাসান আল বসরী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এমন ব্যক্তি যার মৃত্যু এসে পৌঁছেছে এমন অবস্থায়ও ইসলামকে জীবন্ত করার উদ্দেশে ইলম বা জ্ঞানার্জনে মশগুল রয়েছে, জান্নাতে তার সাথে নবীদের মাত্র একধাপ পার্থক্য থাকবে। [১]
[১] য‘ঈফ : দারিমী ৩৫৪, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ৫১৫৬। এর সানাদ মুরসাল হওয়ার কারণে য‘ঈফ।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪৯-[৫২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তির মৃত্যু এসে পৌঁছেছে, অথচ সে ইসলামকে জীবন্ত করার উদ্দেশ্যে ইলম অর্জনে ব্যস্ত আছে, জান্নাতে তার ও নবীদের মাঝে মাত্র এক ধাপ পার্থক্য থাকবে। অনুবাদে এটি হাসান থেকে মুরসালরূপে এসেছে। হাদিসের মূল বার্তা হলো, ইলম শেখা তখনই বেশি মূল্যবান হয় যখন তার উদ্দেশ্য হয় ইসলামকে জীবন্ত করা। অর্থাৎ নিজের অহংকার, তর্ক বা নামের জন্য নয়; বরং দ্বীনের উপকার, মানুষের হিদায়াত এবং সঠিক শিক্ষা ছড়ানোর জন্য জ্ঞান অর্জন করা। এখানে ইলমের ফজিলত, নিয়তের গুরুত্ব এবং দ্বীনের খেদমতের বিষয় একসাথে এসেছে। একজন জ্ঞানপ্রার্থী মৃত্যুর আগ পর্যন্তও যদি দ্বীনের জন্য শেখায় মগ্ন থাকে, তা বড় মর্যাদার কাজ হিসেবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইলম শেখার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ইসলামকে জীবন্ত করা।
- দ্বীনের উপকারের জন্য জ্ঞানার্জন বড় মর্যাদার কাজ।
- মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভালো কাজে ব্যস্ত থাকা প্রশংসনীয়।
- ইলমের সাথে নিয়ত ও দ্বীনের খেদমত গভীরভাবে জড়িত।
