২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৫-[৫৮] - ইলমের পথ ও জান্নাতের আশা
ইলম (বিদ্যা) - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ইলমের পথ, জান্নাতের আশা ও তাকওয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৫৫-[৫৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫৫-[৫৮]
وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ اللهَ عَزَّوَجَلَّ أَوْحى إِلَيَّ أَنَُّ مَنْ سَلَكَ مَسْلَكًا فِيْ طَلَبِ الْعِلْمِ سَهَّلْتُ لَه طَرِيْقَ الْجَنَّةِ وَمَنْ سَلَبْتُ كَرِيْمَتَيْهِ أَثَبْتُه عَلَيْهِمَا الْجَنَّةَ وَفَضْلٌ فِيْ عِلْمٍ خَيْرٌ مِّنْ فَضْلٍ فِيْ عِبَادَةِ وَمِلَاكُ الدِّيْنِ الْوَرَعُ. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ في شُعَبُ الْإِيْمَانِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা’আলা আমার কাছে ওহী পাঠিয়েছেন, যে ব্যক্তি ইলম (বিদ্যা) হাসিল করার জন্য কোন পথ ধরবে আমি তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দিব। আর যেই ব্যক্তির দুই চোখ আমি নিয়ে নিয়েছি, তার বিনিময়ে আমি তাকে জান্নাত দান করব। ইবাদতের পরিমাণ বেশি হবার চেয়ে ইলমের পরিমাণ বেশি হওয়া উত্তম। দ্বীনের মূল হল তাক্বওয়া তথা হারাম ও দ্বিধা-সন্দেহের বিষয় হতে বেঁচে থাকা। [১]
[১] সহীহ: বায়হাক্বী ৫৭৫১, সহীহুল জামি‘ ১৭২৭। আলবানী (রহঃ) বলেন, আমি এর সানাদ সম্পর্কে ওয়াকিফ নই। তবে হাদীসটি সহীহ। এতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ তার এ পৃথক পৃথক অংশ বিভিন্ন সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। যেমন প্রথম অংশ মুসলিমে, দ্বিতীয় অংশ বুখারীতে, তৃতীয়-চতুর্থ অংশ মুসতাদরাক হাকিম-এ।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৫-[৫৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা রা. বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন যে আল্লাহ তাঁর কাছে ওহী করেছেন—যে ব্যক্তি ইলম হাসিল করার পথে চলে, তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেওয়া হবে। আরও এসেছে, যার দুই চোখ আল্লাহ নিয়ে নিয়েছেন, তার বিনিময়ে তাকে জান্নাত দান করা হবে। এরপর বলা হয়েছে, ইবাদতের পরিমাণ বেশি হওয়ার চেয়ে ইলমের পরিমাণ বেশি হওয়া উত্তম; আর দ্বীনের মূল হলো তাকওয়া, অর্থাৎ হারাম ও সন্দেহের বিষয় থেকে বেঁচে থাকা। হাদিসটি ইলমের ফজিলত, ধৈর্য, জান্নাতের আশা এবং তাকওয়ার গুরুত্ব একসাথে তুলে ধরে। এখানে ইলমকে শুধু তথ্য নয়, বরং আল্লাহভীতি ও সতর্ক জীবনের পথ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইলম অর্জনের পথ জান্নাতের পথ সহজ হওয়ার কারণ হতে পারে।
- দ্বীনি ইলমের মর্যাদা নফল ইবাদতের পরিমাণের চেয়ে বড় বলা হয়েছে।
- তাকওয়া দ্বীনের মূল হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।
- হারাম ও সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকা দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
