১০/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪৫২-[৩৭] - বেশি চিন্তাগ্রস্ত হলে পড়ার দোয়া
বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দোয়া - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
বেশি চিন্তাগ্রস্ত হলে কুরআনের প্রশান্তির দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৪৫২-[৩৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৪৫২-[৩৭]
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ قَالَ: «مَنْ كَثُرَ هَمُّه فَلْيَقُلْ: اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ أَمَتِكَ وَفِىْ قَبْضَتِكَ نَاصِيَتِىْ بِيَدِكَ مَاضٍ فِىْ حُكْمُكَ عَدْلٌ فِىْ قَضَاؤُكَ أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِه نَفْسَكَ أَوْ أَنْزَلْتَه فِىْ كِتَابِكَ أَوْ عَلَّمْتَه أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ أَوْ أَلْهَمْتَ عِبَادَكَ أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِه فِىْ مَكْنُوْنِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْاٰنَ رَبِيعَ قَلْبِىْ وَجَلَاءَ هَمِّىْ وغَمِّىْ مَا قَالَهَا عَبْدٌ قَطُّ إِلَّا أَذْهَبَ اللّٰهُ غَمَّه وَأَبْدَلَه فَرَجًا». رَوَاهُ رَزِيْنٌ
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে বেশি চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে সে যেন বলে, ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী ‘আবদুকা, ওয়াবনু ‘আবদিকা ওয়াবনু আমাতিকা, ওয়াফী কবযাতিকা, না-সিয়াতী বিয়াদিকা মা-যিন ফী হুকমুকা ‘আদলুন ফি কযা-উকা আস্আলুকা বিকুল্লি ইসমিন, হুওয়া লাকা সাম্মায়তা বিহী নাফসাকা, আও আনযালতাহূ ফী কিতা-বিকা, আও ‘আল্লামতাহূ আহাদাম্ মিন্ খলকিকা, আও আলহামতা ‘ইবা-দাকা, আউইস্তা’সারতা বিহী ফী মাকনূনিল গয়বি ‘ইনদাক আন্ তাজ্‘আলাল কুরআ-না রবী‘আ কলবী ওয়াজালা-আ হাম্মী ওয়া গম্মী’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার বান্দা, তোমার বান্দার পুত্র, তোমার দাসীর পুত্র। আমি তোমার হাতের মুঠে, আমার অদৃষ্ট তোমার হাতে। তোমার হুকুম আমার ওপর কার্যকর, তোমার আদেশ আমার পক্ষে ন্যায়। আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি তোমার সেসব নামের ওয়াসীলায় যাতে তুমি নিজেকে অভিহিত করেছো, অথবা তুমি তোমার কিতাবে নাযিল করেছো অথবা তুমি তোমার সৃষ্টির কাউকেও তা শিক্ষা দিয়েছো, অথবা তুমি তোমার বান্দাদের ওপর ইলহাম করেছো (অদৃশ্য অবস্থায় থেকে অন্তরে কথা বসিয়ে দেয়া) অথবা তুমি গায়বের পর্দায় তা তোমার কাছে অদৃশ্য রেখেছো- তুমি কোরআনকে আমার অন্তরের বসন্তকাল স্বরূপ চিন্তা-ফিকির দূর করার উপায় স্বরূপ গঠন করো।)।যে বান্দা যখনই তা পড়বে আল্লাহ তার চিন্তা-ভাবনা দূর করে দেবেন এবং তার পরিবর্তে মনে নিশ্চিন্ততা (প্রশান্তি) দান করবেন। (রযীন)[১]
[১] সহীহ : মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১০৩৫২, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১২৪, সহীহ আত্ তারগীব ১৮২২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪৫২-[৩৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বেশি চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য দীর্ঘ ও গভীর একটি দোয়া এসেছে। দোয়ায় বান্দা নিজেকে আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরিচয় দেয় এবং স্বীকার করে যে তার ভাগ্য আল্লাহর হাতে, আল্লাহর হুকুম কার্যকর এবং তাঁর সিদ্ধান্ত ন্যায়। এরপর আল্লাহর সব নামের ওসিলায় আবেদন করা হয়—যে নাম আল্লাহ নিজে রেখেছেন, কিতাবে নাযিল করেছেন, কাউকে শিখিয়েছেন বা গায়বের জ্ঞানে নিজের কাছে রেখেছেন। দোয়ার শেষে কুরআনকে অন্তরের বসন্ত, দুশ্চিন্তা দূর করার উপায় এবং কষ্টের প্রশান্তি করার আবেদন আছে। হাদিসে বলা হয়েছে, যে বান্দা তা পড়বে, আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করে প্রশান্তি দান করবেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুশ্চিন্তার সময় আল্লাহর সামনে নিজের দাসত্ব স্বীকার করা উচিত।
- আল্লাহর সুন্দর নামের ওসিলায় দোয়া করা যায়।
- কুরআনকে অন্তরের প্রশান্তির কারণ হিসেবে চাওয়া শেখানো হয়েছে।
- চিন্তা ও কষ্টের সময় নববী দোয়া মানুষকে আল্লাহর দিকে নেয়।
