১০/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫০২-[২১] - দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণের দোয়া
মৌলিক দোয়াসমূহ - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৫০২-[২১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫০২-[২১]
وَعَنْ أَنَسٍ: أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ عَادَ رَجُلًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ قَدْ خَفَتَ فَصَارَ مِثْلَ الْفَرْخِ فَقَالَ لَه رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «هَلْ كُنْتَ تَدْعُو اللّٰهَ بِشَىْءٍ أَوْ تَسْأَلُه إِيَّاهُ؟». قَالَ: نَعَمْ كُنْتُ أَقُولُ: اَللّٰهُمَّ مَا كُنْتَ مُعَاقِبِىْ بِه فِى الْاٰخِرَةِ فَعَجِّلْهُ لِىْ فِى الدُّنْيَا. فَقَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «سُبْحَانَ اللّٰهِ لَا تُطِيقُه وَلَا تَسْتَطِيعُه أَفَلَا قُلْتَ: اَللّٰهُمَّ ﴿اٰتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِى الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ﴾». قَالَ: فَدَعَا اللهَ بِه فَشَفَاهُ اللهُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একজন রোগীকে দেখতে গেলেন, যে পাখির বাচ্চার মতো শুকিয়ে দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি আল্লাহর কাছে কোন বিষয়ে দোয়া করেছিলে অথবা তা তাঁর কাছে কামনা করেছিলে? উত্তরে সে বললো, হ্যাঁ, আমি বলতাম, ‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আখিরাতে যে শাস্তি দিবে তা আগেই দুনিয়াতে দিয়ে দাও।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সুবহা-নাল্ল-হ! আখিরাতের শাস্তি তুমি দুনিয়াতে সহ্য করতে পারবে না এবং আখিরাতেও সহ্য করতে পারবে না। তুমি এভাবে বলনি কেন- ‘‘আল্ল-হুম্মা আ-তিনা- ফিদ্দুন্ইয়া- হাসানাতওঁ ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়াকিনা- ‘আযা-বান্না-র’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়াতে ও আখিরাতে কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের ‘আযাব থেকে রক্ষা কর)। বর্ণনাকারী [আনাস (রাঃ)] বলেন, পরে ঐ ব্যক্তি এভাবে দোয়া করলো এবং আল্লাহ তা‘আলা তাকে আরোগ্য দান করলেন। (মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ২৬৮৮, তিরমিযী ৩৪৮৭, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৩৪০, আহমাদ ১২০৪৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৯৪১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫০২-[২১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক রোগীর ঘটনা এসেছে, যিনি আল্লাহর কাছে এমন দোয়া করতেন যে আখিরাতে যে শাস্তি হওয়ার তা যেন দুনিয়াতেই দিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তিনি খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বুঝিয়ে দিলেন যে এমন শাস্তি মানুষ সহ্য করতে পারে না। এরপর তিনি তাকে কুরআনের দোয়া শিখালেন: হে আল্লাহ, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতে কল্যাণ দাও এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর। এই হাদিস দোয়ার আদব শেখায়। দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণের দোয়া ভারসাম্যপূর্ণ। এতে দুনিয়ার ভালো, আখিরাতের ভালো এবং আগুনের শাস্তি থেকে নিরাপত্তা একসাথে চাওয়া হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের ওপর অসহনীয় বিপদ বা শাস্তি কামনা করা ঠিক নয়।
- দোয়ার ক্ষেত্রে দুনিয়া ও আখিরাত—দুই জীবনের কল্যাণ চাওয়া উচিত।
- জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা চাওয়া মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দোয়া।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে সহজ ও কল্যাণকর দোয়া শিখিয়েছেন।
