১১/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৩৫-[৩১] - অজুহাত ছাড়া হজ্জ না করার কঠোর সতর্কতা
হজ্জ - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
অজুহাত ছাড়া হজ্জ না করার কঠোর সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৫৩৫-[৩১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫৩৫-[৩১]
وَعَنْ أَبِىْ أُمَامَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: مَنْ لَمْ يَمْنَعْهُ مِنَ الْحَجِّ حَاجَةٌ ظَاهِرَةٌ أَوْ سُلْطَانٌ جَائِرٌ أَوْ مَرَضٌ حَابِسٌ فَمَاتَ وَلَمْ يَحُجَّ فَلْيَمُتْ إِنْ شَاءَ يَهُودِيًّا وَإِنْ شَاءَ نَصْرَانِيًّا. رَوَاهُ الدَّارِمِىُّ
আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সুস্পষ্ট অভাব অথবা অত্যাচারী শাসকের বাধা, অথবা সাংঘাতিক রোগে আক্রান্ত হওয়া ছাড়া হজ্জ পালন না করে মৃত্যুপথে যাত্রা করেছে, সে যেন মৃত্যুবরণ করে ইয়াহূদী হয়ে অথবা নাসারা হয়ে। (দারিমী)[১]
[১] য‘ঈফ : দারিমী ১৮২৬, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৭৫৪। কারণ এর সনদে লায়স ইবনু আবী সুলায়ম একজন দুর্বল রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৩৫-[৩১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হজ্জ না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা এসেছে। বলা হয়েছে, যার হজ্জে যাওয়ার পথে সুস্পষ্ট অভাব, অত্যাচারী শাসকের বাধা বা এমন রোগ নেই যা তাকে আটকে রাখে—তারপরও সে হজ্জ না করে মৃত্যুর পথে গেলে, তার ব্যাপারে কঠোর ভাষা বলা হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, শরয়ি ও বাস্তব বাধা না থাকলে হজ্জকে অবহেলা করা ভয়ংকর বিষয়। তবে হাদিসের ভাষায় যে তিনটি বাধা এসেছে—অভাব, জালিম শাসকের বাধা, আটকানো রোগ—এগুলো উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে বোঝা যায়, ইসলাম মানুষের অক্ষমতা ও বাধাকে বিবেচনা করে, কিন্তু সামর্থ্য থাকা অবস্থায় অবহেলাকে সমর্থন করে না। তাই হজ্জ ফরজ হলে দেরি ও উদাসীনতা থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রকাশ্য অভাব থাকলে তা হজ্জে বাধা হতে পারে।
- অত্যাচারী শাসকের বাধা বা মারাত্মক রোগও বিবেচিত হয়েছে।
- বাধা না থাকলে হজ্জ অবহেলা করা কঠোরভাবে নিন্দিত।
- হজ্জের দায়িত্বকে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
